বর্ণিল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে শেরপুরে নববর্ষ বরণ
- আপডেট সময় : ৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পুরো উপজেলা উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
সকাল ১০টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢোল-বাদ্য ও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় সুরের তালে তালে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ব্যানার, ফেস্টুন ও লোকজ নানা প্রতীক হাতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো শহরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা শাস্ত্রীয় সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগান ও ভাওয়াইয়া পরিবেশন করেন। ‘রাগ ভৈরবী’র সুরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদুল হাসান, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মইনুদ্দিন, পৌর বিএনপি বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমারকুণ্ড, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল।
এছাড়াও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী এবং মহিলা দলের নেত্রী নাসরিন আকতার পুটি, আফরোজা খাতুন ডিনা, সুরাইয়া লায়লা, শাজানাজ পারভীন, শেফালী ঘোষ,সুইটি আকতার মিষ্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নববর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, গ্রামীণ খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। মেলায় লোকজ পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে।
বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। পুরোনো সব গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
উৎসবমুখর পরিবেশে শেরপুরবাসী আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বরণ করে নেয় নতুন বাংলা বছর। প্রায় দুই দশক পর একটি সুন্দর উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।



















