ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রামুতে পৈশাচিক হামলার ৫ দিন হলেও মামলা নেয়নি থানা পুলিশ

এস. এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ৭৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মোসলেম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র, হাসপাতাল সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মসজিদের সভায় অনুদান দিতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন মোসলেম উদ্দিন। পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
“লাঠিপেটায় রক্তাক্ত করে ফেলে রাখা হয়”
আহত মোসলেম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী লাঠি দিয়ে তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে মোসলেম উদ্দিন গুরুতর শারীরিক অবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। জমিজমা বিরোধ থেকেই কি হামলা?
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
মোসলেম উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গনি এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলামের ইন্ধনে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রতিপক্ষ ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং এলাকা ছাড়া করার উদ্দেশ্যে এই হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত জুবায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা রামু থানায় অভিযোগ দিতে গেলে মামলা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পাঁচদিন পার হলেও এখনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এতে তারা বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলো। তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অথচ মামলা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ও তার পরিবার থানায় গিয়ে মামলা করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় ন্যায়বিচার পাবে?
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের আধিপত্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ভয়ভীতির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গুরুতর আহত একজন ব্যক্তির ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব হলে তা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে রামু থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামুতে পৈশাচিক হামলার ৫ দিন হলেও মামলা নেয়নি থানা পুলিশ

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মোসলেম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র, হাসপাতাল সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মসজিদের সভায় অনুদান দিতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন মোসলেম উদ্দিন। পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
“লাঠিপেটায় রক্তাক্ত করে ফেলে রাখা হয়”
আহত মোসলেম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী লাঠি দিয়ে তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে মোসলেম উদ্দিন গুরুতর শারীরিক অবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। জমিজমা বিরোধ থেকেই কি হামলা?
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
মোসলেম উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গনি এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলামের ইন্ধনে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রতিপক্ষ ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং এলাকা ছাড়া করার উদ্দেশ্যে এই হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত জুবায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা রামু থানায় অভিযোগ দিতে গেলে মামলা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পাঁচদিন পার হলেও এখনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এতে তারা বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলো। তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অথচ মামলা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ও তার পরিবার থানায় গিয়ে মামলা করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় ন্যায়বিচার পাবে?
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের আধিপত্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ভয়ভীতির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গুরুতর আহত একজন ব্যক্তির ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব হলে তা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে রামু থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।