ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলা সেই বিএনপি নেতা আবারও বললেন ‘স্লিপ অব টাং’

ফেনী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ৩০ শে মে – ২০২৬ ইং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমার বক্তব্যকে বিকৃত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে উপস্থাপন প্রসঙ্গে – শনি ও রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে,যা ইতিমধ্যে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
গত শনিবার (৩০ মে) দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দচয়ন গত ভুল (Slip of Tongue) করি। বিষয়টি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মঞ্চে উপস্থিত সবার সামনে আমার বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করি এবং স্পষ্ট করি যে, আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা কাউকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা নয়।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন,পরিবেশ ও জলবায় পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু।এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
এরপরও একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো এবং আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই কোনো ব্যক্তিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ছিল না।
জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমাদের নেতা,আমাদের নবী নয়।আমাদের নবী একজন তিনি হলেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।ওনার সাথে কারো তুলনা হয় না।আমরা সবাই ওনার উম্মত।ওনার সুপারিশে আখেরাতে আমাদের নাজাতের ফয়সালা হবে।সুতরাং ওনাকে নিয়ে কোন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি একজন মুসলমান হিসেবে মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস পোষণ করি। আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের কোনো কর্মকাণ্ডেই ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননার প্রশ্ন ওঠে না। বক্তব্যের একটি অংশকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ধর্মীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিন্দনীয়।
আমি বিশ্বাস করি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আমার বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। একটি অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবুও যদি আমার বক্তব্যের কারণে কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই যে আমি গত ১৫ বছর যাবত লস্করহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে খেদমত করার আল্লাহ পাক তৌফিক দান করেছেন।আমি বিগত ৩০ বছর যাবত একটি বেসরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপনা করে আসছি। বিগত ৪০ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতি তে যুক্ত রয়েছি । ফেনী জয়নাল হাজারী কলেজ পূর্ববর্তী ফেনী পাবলিক কলেজ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করিতেছি।সুতরাং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছি কোন কোন সময় ভুল হতেই পারে, মানুষ মাত্রই ভুল কেউ ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমি আবারো আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ফেনীবাসী সহ দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলা সেই বিএনপি নেতা আবারও বললেন ‘স্লিপ অব টাং’

আপডেট সময় :

গত ৩০ শে মে – ২০২৬ ইং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমার বক্তব্যকে বিকৃত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে উপস্থাপন প্রসঙ্গে – শনি ও রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে,যা ইতিমধ্যে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
গত শনিবার (৩০ মে) দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দচয়ন গত ভুল (Slip of Tongue) করি। বিষয়টি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মঞ্চে উপস্থিত সবার সামনে আমার বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করি এবং স্পষ্ট করি যে, আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা কাউকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা নয়।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন,পরিবেশ ও জলবায় পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু।এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
এরপরও একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো এবং আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই কোনো ব্যক্তিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ছিল না।
জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমাদের নেতা,আমাদের নবী নয়।আমাদের নবী একজন তিনি হলেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।ওনার সাথে কারো তুলনা হয় না।আমরা সবাই ওনার উম্মত।ওনার সুপারিশে আখেরাতে আমাদের নাজাতের ফয়সালা হবে।সুতরাং ওনাকে নিয়ে কোন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি একজন মুসলমান হিসেবে মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস পোষণ করি। আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের কোনো কর্মকাণ্ডেই ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননার প্রশ্ন ওঠে না। বক্তব্যের একটি অংশকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ধর্মীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিন্দনীয়।
আমি বিশ্বাস করি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আমার বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। একটি অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবুও যদি আমার বক্তব্যের কারণে কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই যে আমি গত ১৫ বছর যাবত লস্করহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে খেদমত করার আল্লাহ পাক তৌফিক দান করেছেন।আমি বিগত ৩০ বছর যাবত একটি বেসরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপনা করে আসছি। বিগত ৪০ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতি তে যুক্ত রয়েছি । ফেনী জয়নাল হাজারী কলেজ পূর্ববর্তী ফেনী পাবলিক কলেজ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করিতেছি।সুতরাং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছি কোন কোন সময় ভুল হতেই পারে, মানুষ মাত্রই ভুল কেউ ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমি আবারো আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ফেনীবাসী সহ দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।