ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

নোয়াখালী ব্যুরোপ্রধান
  • আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অপর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাত দিয়ে টানলে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মো. চাষী। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। কয়েকদিন ধরে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা হাত দিয়ে টানতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসে বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজু বলেন, “কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত পুরুত্বও মানা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি একাধিকবার কাজ পরিদর্শন করেছেন। তার দাবি, কিছু উৎসুক ব্যক্তি কার্পেটিং তুলে ফেলেছেন। কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কাজের সিডিউল বা প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, “এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় পরীক্ষা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসম্মতভাবে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অপর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাত দিয়ে টানলে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মো. চাষী। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। কয়েকদিন ধরে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা হাত দিয়ে টানতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসে বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজু বলেন, “কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত পুরুত্বও মানা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি একাধিকবার কাজ পরিদর্শন করেছেন। তার দাবি, কিছু উৎসুক ব্যক্তি কার্পেটিং তুলে ফেলেছেন। কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কাজের সিডিউল বা প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, “এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় পরীক্ষা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসম্মতভাবে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।