নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে তৃণমূলে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দায়িত্ব হারানো সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারকে পুনরায় নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জালাল সরকারের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে তিনি আবার দায়িত্বে ফেরেন। তবে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৫ জুন নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপি নজরপুর ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরও জালাল সরকার পুনরায় নেতৃত্বে আসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে তাঁকে দায়িত্বে আনা হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত ২১ জুন জালাল সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভে এসে তাঁর বাবা জালাল সরকার ও চাচা হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রয়োজন হলে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার কথাও বলেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, “দল কখনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা বিতর্কিত কাউকে প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অর্থ বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে পদ পাওয়ার সুযোগ নেই।”
তবে জালাল সরকার তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” ছেলের ফেসবুক লাইভ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমার ছেলেকে মাদক সেবন করিয়ে ওই লাইভ করানো হয়েছে। গত তিন মাস ধরে সে আমার সঙ্গে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।”
স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে আনার দাবি জানিয়েছেন।














