টানা বর্ষণে নরসিংদীতে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন
- আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে নরসিংদীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫৬ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্রাহ্মণপাড়া, কাউরিয়াপাড়া, সাটিরপাড়া, চৌয়ালা, নাগরিয়াকান্দি, ঘোষপাড়া, বেপারীপাড়া, বানিয়াছল, বীরপুর, ব্রাহ্মন্দী, বিলাসদী ও ভেলানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমেছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা জজ আদালত এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি জমে যায়।
নরসিংদী পৌর প্রশাসক মোছা. নাদিরা আক্তার বলেন, পৌরসভার ড্রেনেজ সমস্যা দীর্ঘদিনের। এটি অল্প সময়ে সমাধান সম্ভব নয়। তবে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার পাশে মাটি ফেলে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ করতে না পারায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল হক বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


















