ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে ঘাটাইলের জয় Logo শাহপরীরদ্বীপে ১০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিল বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন Logo কাঁঠালিয়ার এক বিদ্যালয়ের শতভাগ বৃত্তি, সফল জমজ দুই ভাই Logo কুড়িগ্রামে এইচএসসি কেন্দ্রে অনুপস্থিত ট্যাগ কর্মকর্তা, ফোনে দায়িত্ব হস্তান্তর Logo ফুলগাজীতে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে মুহুরীর পানি Logo হালুয়াঘাটে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘট, স্মারকলিপি প্রদান Logo ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে ৩ কিলোমিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ Logo উত্তরবঙ্গের সেরা মুগ্ধ বিউটি মেকওভার, সম্মাননা পেলেন সুমি Logo নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর Logo টানা বর্ষণে নরসিংদীতে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন

নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজীব মিয়া (২৩) পেশায় পিকআপচালক। তিনি জেলা শহরের মালনী এলাকার আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় পেটে ব্যথা নিয়ে সজীবকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। এতে জরুরি বিভাগের কয়েকটি জানালার কাচ, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোববার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সজীবকে হাসপাতালে আনা হয়। তাৎক্ষণিক ইসিজি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি স্বজনদেরও জানানো হয়। তবে রেফারের প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা হাসপাতালে নেই।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরামুল হাসান বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর

আপডেট সময় :

নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজীব মিয়া (২৩) পেশায় পিকআপচালক। তিনি জেলা শহরের মালনী এলাকার আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় পেটে ব্যথা নিয়ে সজীবকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। এতে জরুরি বিভাগের কয়েকটি জানালার কাচ, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোববার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সজীবকে হাসপাতালে আনা হয়। তাৎক্ষণিক ইসিজি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি স্বজনদেরও জানানো হয়। তবে রেফারের প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা হাসপাতালে নেই।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরামুল হাসান বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।