বিলাঞ্চলের উন্নয়নের নেপথ্যের কারিগর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক
- আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
এক সময় গোপালগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলের মানুষের জীবন ছিল জলপথনির্ভর। বছরের অধিকাংশ সময় নৌকা, তালগাছের ডোঙ্গা, কলাগাছের ভেলা ও অন্যান্য দেশীয় জলযানই ছিল চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও প্রবীণদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি রোগীকেও সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতো না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিমালার আলোকে জেলার বিলাঞ্চলসহ পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদে আধাপাকা সড়ক, কার্পেটিং সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাপক গতি আসে। ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
এলাকাবাসীর মতে, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জিলানীর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হকের কারিগরি নেতৃত্ব ও নিবিড় মাঠ তদারকির সমন্বয়ে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
বর্তমানে যে বিলাঞ্চলে একসময় নৌকা ছাড়া চলাচল কল্পনাও করা যেত না, সেখানে আজ ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন সারা বছর চলাচল করছে। কৃষকরা সহজে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন, শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাচ্ছেন এবং জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক শুধু বিলাঞ্চলেই নয়, গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার, প্রকৌশলগত মান বজায় রাখা এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ছিলেন। তাঁর দায়িত্বকালে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও মান বজায় রেখে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
এদিকে পদোন্নতিজনিত কারণে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক শিগগিরই গোপালগঞ্জ ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন-এমন খবরে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, একজন দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ প্রকৌশলীর নেতৃত্বে যে উন্নয়নের ভিত গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গোপালগঞ্জকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে জেলার যেসব এলাকায় এখনও যোগাযোগ অবকাঠামোর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের অর্থায়নে নির্মিত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিদায়ের প্রাক্কালে গোপালগঞ্জবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক বলেন, সরকারের অর্থায়নে নির্মিত প্রতিটি সড়ক, সেতু ও কালভার্ট শুধু ইট, পাথর, বালু ও বিটুমিনের সমন্বয়ে নির্মিত কোনো অবকাঠামো নয়, এগুলো জাতীয় সম্পদ, যা জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থে বাস্তবায়িত হয়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার এবং অসংখ্য শ্রমিকের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, মেধা, শ্রম, সততা ও দায়িত্ববোধ জড়িয়ে থাকে। তাই এসব অবকাঠামো সংরক্ষণ করা শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল, সড়কের কাঁধ (শোল্ডার) কেটে ফেলা, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট করা, অনুমতি ছাড়া রাস্তা খনন, অবৈধ ইউটিলিটি সংযোগ স্থাপন, সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং অসচেতন ব্যবহারের কারণে নতুন ও পুরোনো-উভয় ধরনের সড়কই অকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার সম্পদের অপচয় ঘটে, অন্যদিকে জনগণও দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি হয়তো পদোন্নতিজনিত কারণে অন্য কর্মস্থলে চলে যাব। কিন্তু এই সড়কগুলো রয়ে যাবে গোপালগঞ্জবাসীর জন্য। এগুলোর প্রতিটি স্তরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার, আমার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন উপজেলার প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত অসংখ্য মানুষের শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার স্মৃতি। তাই আমার বিনীত অনুরোধ, এগুলোকে সরকারি সম্পদ হিসেবে নয়, নিজেদের সম্পদ মনে করে সংরক্ষণ করুন।
তিনি গোপালগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে রাস্তার ক্ষতি হবে, অবৈধভাবে রাস্তা খনন করা হবে, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহনের কারণে সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়বে কিংবা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হবে-সেখানে নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করুন। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
এদিকে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিমত, গোপালগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য নয়, বরং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন নীতি, জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং এলজিইডির প্রকৌশলীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার বাস্তব প্রতিফলন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গোপালগঞ্জকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে জেলার যেসব এলাকায় এখনও সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সরকারের অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে জনগণও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, যাতে উন্নয়নের সুফল বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সমানভাবে ভোগ করতে পারে।
গোপালগঞ্জবাসীর বিশ্বাস, উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে জেলার বিলাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং একসময়ের যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন জনপদ একটি আধুনিক, টেকসই ও উন্নত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।















