ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মৃত ব্যক্তিকে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে, সমালোচনা

শ্যামল ভৌমিক, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট সময় : ১৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মৃত এক ব্যক্তির নাম ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিটির একটি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা এবং সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। সেই কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয় রামখানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের নাম।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজায় উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিলেন। অথচ প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত নতুন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, শুধু মৃত ব্যক্তিকেই নয়, নবগঠিত ইউনিয়ন কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কমিটিতে এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে, যারা গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দাবি, দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধাভোগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে দলীয় গ্রুপিংয়ের ফল বলে মনে করছেন।
তাদের দাবি, অভিযোগ তদন্ত করে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান নিজের ফেসবুক আইডিতে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা মরহুম আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেছিলেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছিলেন।
মৃত আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে এসেছিলেন।
রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিন বিএসসি বলেন, ভুলক্রমে তার নাম কমিটিতে চলে এসেছে। তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন। উপজেলা কমিটি যে তিনি মারা গেছেন, বিষয়টি জানত না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মৃত ব্যক্তিকে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে, সমালোচনা

আপডেট সময় :

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মৃত এক ব্যক্তির নাম ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিটির একটি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা এবং সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। সেই কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয় রামখানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের নাম।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজায় উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিলেন। অথচ প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত নতুন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, শুধু মৃত ব্যক্তিকেই নয়, নবগঠিত ইউনিয়ন কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কমিটিতে এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে, যারা গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দাবি, দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধাভোগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে দলীয় গ্রুপিংয়ের ফল বলে মনে করছেন।
তাদের দাবি, অভিযোগ তদন্ত করে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান নিজের ফেসবুক আইডিতে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা মরহুম আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেছিলেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছিলেন।
মৃত আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে এসেছিলেন।
রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিন বিএসসি বলেন, ভুলক্রমে তার নাম কমিটিতে চলে এসেছে। তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন। উপজেলা কমিটি যে তিনি মারা গেছেন, বিষয়টি জানত না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।