কটিয়াদীতে মহাসড়কের একাংশে ময়লার স্তুপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন
- আপডেট সময় : ১৭০ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের একাংশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে যাত্রীরা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজার ও পরিবহন থেকে আসা বর্জ্য মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না নেওয়ায় সড়কে জমে আছে আবর্জনার স্তূপ। সন্ধ্যার সময় এই বর্জ্যের পাশেই মাছ ও কাঁচামালের বাজার বসে, দুর্গন্ধের কারণে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের আগ্রহ কমেছে। স্থানীয় হোটেলগুলোতেও দুর্গন্ধের প্রভাব পড়ছে।
যাত্রী ও পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে আবর্জনা পড়ে আছে। এতে শুধু দুর্গন্ধ নয়, মশা-মাছি ও রোগব্যাধিরও ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়ক থেকে ময়লা অপসারণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানান তারা।
পচা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যানে করে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নিয়ে এসে রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে ফেলে যায়। টোকাইরা পচা ময়লার স্তূপ এদিক-ওদিক সরিয়ে ভাঙাচোরা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল প্রভৃতি কুড়িয়ে কাঁধে চাপানো বস্তায় রাখে। বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানির সাথে ময়লাআবর্জনা মহাসড়কের রাস্তার উপর জমে থাকে। এসময় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
এভাবে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে মূল রাস্তা ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে। পথচারীদের দেখা যায় নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করছে। কেউ কেউ হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিনই এলাকাবাসী, পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ছে।
পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন অভিযোগ করে জানান, ময়লার কারণে মহাসড়কের অর্ধেক অংশ প্রায় দখল হয়ে গেছে। পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তো দূরের কথা, এখনো পর্যন্ত আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসম্মুখে ময়লার স্তুপ নিয়ে বারবার পৌর প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। প্রায় ১০ বছর ধরে পৌর এলাকার সব আবর্জনা মহাসড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে, যদিও এর আগে বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলা হতো।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও পৌর প্রশাসক লাভনী আক্তার তারানা জানান, ময়লা রাখার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। কয়েক বছর ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে দ্রুতই ময়লা সরিয়ে নেওয়া হবে এবং নতুন স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।




















