ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃত্বে ইয়াছিন-মুন্না Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ

কমলনগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ‘সবুজ বাহিনী’

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৭৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. সবুজ (২৮) নামে এক যুবকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নারী ও শিশুদের শ্লীলতাহানি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধে লিপ্ত এই যুবকের অত্যাচারে এখন চর কাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক শ মানুষ আতঙ্কিত। সর্বশেষ আট বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সবুজ ঘরে ঢুকে আট বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করে। এই ঘটনায় শিশুর মা হোসনেয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলনগর থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত সবুজ ওই এলাকার শাহে নেওয়াজের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, সবুজের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় অসংখ্য নারী ও শিশু। তালিকায় ইউসুফের মেয়ে সিমা আক্তার, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী তাছনুর, খালেকের স্ত্রী।
বেলালের মেয়ে রিতু আক্তারসহ গ্রামের অন্তত ১০/১২ জন নারীর নাম উঠে এসেছে, যাদের সে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সবুজ এলাকায় একটি শক্তিশালী কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে। তার বাহিনীর প্রধান অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে: চর কাদিরা ভুলুয়া ব্রিজে রাত ৯টার পর পথচারীদের আটকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনতাই।
এলাকায় গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ।
মোটরসাইকেল ও গবাদিপশু চুরির সিন্ডিকেটের সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, থানা ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েও ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।
এই বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, পুলিশের জনবল ও গাড়ি সংকট রয়েছে। অনেক সময় সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে অভিযানে যেতে হয়, যা অপরাধী দমনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অভিযুক্ত সবুজের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হউক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কমলনগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ‘সবুজ বাহিনী’

আপডেট সময় :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. সবুজ (২৮) নামে এক যুবকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নারী ও শিশুদের শ্লীলতাহানি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধে লিপ্ত এই যুবকের অত্যাচারে এখন চর কাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক শ মানুষ আতঙ্কিত। সর্বশেষ আট বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সবুজ ঘরে ঢুকে আট বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করে। এই ঘটনায় শিশুর মা হোসনেয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলনগর থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত সবুজ ওই এলাকার শাহে নেওয়াজের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, সবুজের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় অসংখ্য নারী ও শিশু। তালিকায় ইউসুফের মেয়ে সিমা আক্তার, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী তাছনুর, খালেকের স্ত্রী।
বেলালের মেয়ে রিতু আক্তারসহ গ্রামের অন্তত ১০/১২ জন নারীর নাম উঠে এসেছে, যাদের সে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সবুজ এলাকায় একটি শক্তিশালী কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে। তার বাহিনীর প্রধান অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে: চর কাদিরা ভুলুয়া ব্রিজে রাত ৯টার পর পথচারীদের আটকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনতাই।
এলাকায় গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ।
মোটরসাইকেল ও গবাদিপশু চুরির সিন্ডিকেটের সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, থানা ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েও ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।
এই বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, পুলিশের জনবল ও গাড়ি সংকট রয়েছে। অনেক সময় সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে অভিযানে যেতে হয়, যা অপরাধী দমনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অভিযুক্ত সবুজের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হউক।