কুড়িগ্রামে এইচএসসি কেন্দ্রে অনুপস্থিত ট্যাগ কর্মকর্তা, ফোনে দায়িত্ব হস্তান্তর
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় বিকল্প কর্মকর্তাদের দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পরীক্ষা শুরুর পর মুঠোফোনে ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং লিখিত আদেশ ছাড়াই বিকল্প দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন। তিনি ছুটিতে থাকায় সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। পরে পরীক্ষা শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনকে মুঠোফোনে ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জামাল হোসেন বলেন, তিনি কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা ছিলেন। তবে অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপের কাজ থাকায় আগেই ছুটি নিয়েছিলেন। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ফোন করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েই ছুটি নিয়েছেন।
নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আনোয়ার হোসেন মণ্ডল বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে ছিলেন। যিনি পরে দায়িত্ব নিতে আসেন, তার কাছে লিখিত আদেশ আছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রশিক্ষণে থাকায় সেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় ওই কেন্দ্রে কেদার ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফোন করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ তিনি পাননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় কেন্দ্রের তুলনায় কর্মকর্তা কম থাকায় সহকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়, তিনিই এ দায়িত্ব দিয়েছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মুঠোফোনে বিকল্প কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যদি তা করে থাকেন, তার দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। বিকল্প দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি মিলিয়ে ৫০টি কেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ১৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলায় আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৯৭৬ জন।


















