কেশবপুরে তুলা চাষে নতুন সম্ভাবনা, বাড়ছে আবাদ
- আপডেট সময় : ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রযুক্তিগত সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষী জমিতে তুলা চাষে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লাভজনক এই ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারা দফায় দফায় মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক করছেন।
গত কয়েক বছর ধরে কৃষি অফিসের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে তুলা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভের সম্ভাবনায় দিনে দিনে তুলার দিকে ঝুঁকছেন প্রান্তিক চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তুলা চাষের জন্য উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬নং কেশবপুর সদর, ১নং ত্রিমোহিনী ও ১০নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন। এসব এলাকায় হাইব্রিড ওয়াড গোল্ড-১/২, এইচএস-৪ ও সিবি হাইব্রিড-১ জাতের তুলা চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাতবাড়িয়া ও ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে তুলার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য ইউনিয়নেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে তুলা চাষ শুরু হয়েছে।
চাষিরা জানান, ৪২ শতক বা এক বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। বিপরীতে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১৮ থেকে ২৪ মণ পর্যন্ত তুলা পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মণ তুলার বাজারমূল্য ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। ফলে এক বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেশবপুরে তুলার আবাদ সম্প্রসারণে আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। তুলা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় চাষিদের বেশি বেশি তুলা আবাদে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশানুরূপ ফলাফলও পাচ্ছি। গত বছর যেখানে ২২ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছিল, চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হেক্টরে। এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হেক্টর, যা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই কেশবপুর উপজেলায় তুলা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে। এতে একদিকে কৃষকদের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।














