কেশবপুরে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় জবাবদিহিতার আহ্বান
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার নিশ্চিত ও সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী করতে কেশবপুর উপজেলায় এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এই গণশুনানিতে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের সরব অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গণশুনানির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয় এবং জুরিবোর্ড সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিতদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা তাদের প্রতিনিধিরা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে শুনে জুরিবোর্ড সদস্যরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোপ প্রকল্পের প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর অ্যাডভোকেট রুহী নাজ বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় শুধু আইন থাকলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গণশুনানি জনগণের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।
সভাপতির বক্তব্যে কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, গণশুনানি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের কথা বলতে পারে। এতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ তৈরি হয়। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোছা: আনজু মনোয়ারা এবং উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। তারা উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
জুরিবোর্ড পরিচালনায় ছিলেন মোঃ আশরাফুজ্জামান, এসআই সঞ্জয় রায়, মানবাধিকার কর্মী মোঃ মুনসুর আলী, সমাজসেবা সুপারভাইজার মাহবুব রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিইব-হোপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী খালিদ হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন রিইব-হোপ প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোখলেসুর রহমান পিন্টু।
ছয়টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণকারীযার মধ্যে ভুক্তভোগী ব্যক্তি, মানবাধিকার কর্মী, সিএসও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এই গণশুনানিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
বক্তারা বলেন, গণশুনানি একটি কার্যকর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, যা ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে একটি ইতিবাচক সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।














