ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হাবিপ্রবিতে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল এনালাইসিস, সায়েন্টিফিক পেপার এন্ড থিসিস রাইটিং শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত Logo গর্জনিয়ায় বৃহৎ ইয়াবা চালান উদ্ধার, অধরা মাদক সম্রাট সোহেল Logo মাদক কারবারের প্রতিবাদ, ইউপি উদ্যােক্তার উপর হামলা Logo পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo টুংগীপাড়ায় অসহায় নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন এমপি Logo নবীনগর-রাধিকা সড়কে ট্রাক দুর্ঘটনার স্বীকার Logo হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার Logo ফুলপুরে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসে বিজয়ীদের সংবর্ধনা Logo ‘গডফাদার’ আমিনের ইশারায় চলে পুরো সিন্ডিকেট Logo তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, ভিক্ষুক সেজে দুই চোর গ্রেফতার

নাইক্ষ্যংছড়ির ফুলতলি সীমান্তের চোরাচালান

‘গডফাদার’ আমিনের ইশারায় চলে পুরো সিন্ডিকেট

এস. এম.হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলি সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ বাণিজ্যের জন্য আলোচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে মো. আমিন নামের এক ব্যক্তির নাম। সীমান্তপথে গরু পারাপার থেকে শুরু করে মাদক ও জ্বালানি পাচার—সবকিছুর পেছনে তার নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ০৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন ফুলতলি সাকিনের রেইক্কাশিয়া নামক সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে দুইটি বার্মিজ বলদ গরু জব্দ করা হয়। জব্দকৃত গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এ সময় অভিযানে অংশ নেওয়া নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় ল্যান্স নায়েক মো. রাজু আহম্মেদের বাম হাতের কবজির ওপর হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া সিপাহী শ্রী অনিক দে, সিপাহী মো. হৃদয় শেখ, সিপাহী মো. শাহরিয়ার ও সিপাহী মো. শরীফ মিয়াসহ আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় হাবিলদার মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ২৫বি/২৫ডি ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/১৮৬/৩০৭ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিজিবি যেসব বার্মিজ গরু জব্দ করেছিল সেগুলো মো. আমিনের সিন্ডিকেটের ছিল। গরু জব্দ হওয়ায় তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আমিন মৃত উলা মিয়া ফকিরের ছেলে। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। স্থানীয়ভাবে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ফুলতলি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে বার্মিজ গরু আনার সময় প্রতি গরু থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্হানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, এই টাকার বড় অংশ মো. আমিনের পকেটে যায়। সীমান্তের পাহাড়ি ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে এসব গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই সীমান্তপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে সয়াবিন তেল, ডিজেল, অকটেন, ওষুধ ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার করা হয়। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করানো হয়। এসব কার্যক্রমে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় এবং তাদের অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে মো. আমিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মো. আমিনের যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয় করে গরু ও অন্যান্য পণ্য পারাপার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫-৬ বছরে মো. আমিন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কচ্ছপিয়া, হাজিরপাড়া ও মৌলভীরকাটা এলাকায় কয়েক শত একর জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া আরও কয়েক শত একর জমি বন্ধক নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফুলতলি সীমান্ত এলাকায় মো. আমিনের নেতৃত্বে পরিবহন সহযোগী, দালাল ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে একটি বড় চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্র সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে রাতের বেলায় পণ্য পারাপার করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরাচালান বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মো. আমিনের সঙ্গে মুটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে সীমান্ত চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেন।
ফুলতলি সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে মো. আমিনের নাম বারবার সামনে আসছে। বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে মোঃ আমিন ও তার সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ শাস্তি মূলক ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাইক্ষ্যংছড়ির ফুলতলি সীমান্তের চোরাচালান

‘গডফাদার’ আমিনের ইশারায় চলে পুরো সিন্ডিকেট

আপডেট সময় :

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলি সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ বাণিজ্যের জন্য আলোচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে মো. আমিন নামের এক ব্যক্তির নাম। সীমান্তপথে গরু পারাপার থেকে শুরু করে মাদক ও জ্বালানি পাচার—সবকিছুর পেছনে তার নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ০৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন ফুলতলি সাকিনের রেইক্কাশিয়া নামক সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে দুইটি বার্মিজ বলদ গরু জব্দ করা হয়। জব্দকৃত গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এ সময় অভিযানে অংশ নেওয়া নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় ল্যান্স নায়েক মো. রাজু আহম্মেদের বাম হাতের কবজির ওপর হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া সিপাহী শ্রী অনিক দে, সিপাহী মো. হৃদয় শেখ, সিপাহী মো. শাহরিয়ার ও সিপাহী মো. শরীফ মিয়াসহ আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় হাবিলদার মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ২৫বি/২৫ডি ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/১৮৬/৩০৭ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিজিবি যেসব বার্মিজ গরু জব্দ করেছিল সেগুলো মো. আমিনের সিন্ডিকেটের ছিল। গরু জব্দ হওয়ায় তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আমিন মৃত উলা মিয়া ফকিরের ছেলে। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। স্থানীয়ভাবে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ফুলতলি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে বার্মিজ গরু আনার সময় প্রতি গরু থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্হানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, এই টাকার বড় অংশ মো. আমিনের পকেটে যায়। সীমান্তের পাহাড়ি ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে এসব গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই সীমান্তপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে সয়াবিন তেল, ডিজেল, অকটেন, ওষুধ ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার করা হয়। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করানো হয়। এসব কার্যক্রমে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় এবং তাদের অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে মো. আমিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মো. আমিনের যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয় করে গরু ও অন্যান্য পণ্য পারাপার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫-৬ বছরে মো. আমিন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কচ্ছপিয়া, হাজিরপাড়া ও মৌলভীরকাটা এলাকায় কয়েক শত একর জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া আরও কয়েক শত একর জমি বন্ধক নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফুলতলি সীমান্ত এলাকায় মো. আমিনের নেতৃত্বে পরিবহন সহযোগী, দালাল ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে একটি বড় চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্র সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে রাতের বেলায় পণ্য পারাপার করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরাচালান বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মো. আমিনের সঙ্গে মুটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে সীমান্ত চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেন।
ফুলতলি সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে মো. আমিনের নাম বারবার সামনে আসছে। বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে মোঃ আমিন ও তার সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ শাস্তি মূলক ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।