গৌরীপুরে নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ১২ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় সেতুটি বর্তমানে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে পাশের আবাদি জমি থেকে উত্তোলন করা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। তখনই তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে টানা বর্ষণে বালু ধুয়ে গিয়ে সড়কের বড় অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা শুধু হেঁটে পারাপার করছেন।
স্থানীয় কৃষক রিপন মিয়া বলেন, “চার বছর ধরে এই সেতুর জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখেছিলেন। এখন সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় কৃষকেরা ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। রিকশা-ভ্যানও চলতে পারছে না। এলাকার মহিলা মাদ্রাসা ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে।”
শাহগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মিন্নাতুল হাসান আরিফ বলেন, “সেতুটি চালু হওয়ার এক মাসও হয়নি, এর মধ্যেই সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সাইকেল বা অটোরিকশায় চলাচল করা যাচ্ছে না। অনেক দূর হেঁটে গিয়ে যানবাহনে উঠতে হয়। এতে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারি না।”
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মিরাজ খাঁ বলেন, “ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো বালু দিয়ে ভরাট করেছেন। আমরা মাটি ব্যবহার করার কথা বললেও তিনি শোনেননি। জনগণের টাকার এমন অপচয়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, স্থানীয়ভাবে যে মাটি পাওয়া যাচ্ছে, সেটিই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানিয়েছিলেন, সংযোগ সড়কে বালু ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী সেখানে মাটি ব্যবহার এবং দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, “সেতুটি ভাঙেনি, শুধু সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে এটি মেরামত করা হবে। এখন বর্ষার মধ্যে কাজ করা সম্ভব নয়।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দীন বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না। প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “পিআইওকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, প্রায় ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।















