জয়পুরহাটে মার্চ মাসে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ৬৯
- আপডেট সময় : ৪৬ বার পড়া হয়েছে
জেলায় গত মার্চ মাসে ১৯৩টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এসব অভিযানে ৬৯ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করা হয়েছে ৭১টি। এছাড়া পালিয়ে যায় আরও ৫ আসামি ।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল-২০২৬) জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক আভিযানিক তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে এসব পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, গত মার্চ মাসে জেলাব্যাপী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য । উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে- ৭৮২ পিস টাপেন্টাডল, ৯৩ দশমিক ৯৯ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার এ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, ২৮ লি: চোলাই মদ এবং ৪ পিস ইয়াবা। এছাড়া নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শুধু অভিযানই নয়,এর পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে মাসজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালিয়েছেন সংস্থাটি। এর মধ্যে ৩৩টি পথসভা, ২৭টি মাদকবিরোধী বক্তব্য প্রদান, ৩টি সেমিনার এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় প্রায় ৫ হাজার ।
এদিকে, মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে জেলার ৯টি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে মোট শয্যা সংখ্যা ৯০টি হলেও রোগীর চাপ রয়েছে আরও বেশি । গত মাসের অবশিষ্ট ১৩৬ জন রোগীর সাথে নতুন করে ৫৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আর সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন। বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৪৫ জন। এছাড়াও ৯১ জন ফলোআপ রোগী এবং ১০২ জনকে কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, ২০২৫ সালে জেলাজুড়ে মোট ১ হাজার ৪০০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ৬১১টি মামলা দায়েরসহ ৬২১ জন কে গ্রেফতার করা হয়। বছরজুড়ে উদ্ধার করা মাদকের তালিকাটিও বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে ছিল- ১৮ কেজি ২০১ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৪৯৮ পিস ইয়াবা, ১৭ হাজার ২৬৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭৬ বোতল ফেনসিডিল, ৫৪ দশমিক ৫৫ লিটার চোলাই মদ, ১০৮ লি: ওয়াশ, ৩ হাজার ২৭৪ এ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১৫ দশমিক ৭৫ গ্রাম হেরোইন এবং ৭৫০ মি: লি: বিলাতি মদ। এছাড়াও মাদক পরিবহণ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোটরসাইকেল, ২টি অটোভ্যান, ৪টি মোবাইল ফোন, ২৪৬ গ্রাম ফেনসিডিল তৈরির উপকরণ, একটি হ্যান্ডকাফ, ছোট-বড় ২ জোড়া শিকল এবং নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬৯ টাকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদ বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি আমরা ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা যেন যথাযথ সেবা পায়, সে বিষয়েও নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে, সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে অবৈধ মাদক কারবারিদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

















