ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ডিভোর্সের এক বছর পরও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডিভোর্সের বছর পার হলেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডিভোর্সের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবার। ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা নাম আসিফ আল হাসান। তিনি ৩৮ তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত আছেন। তবে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিফ আল হাসান ও সুবর্ণা সুলতানা সুমির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বোঝা পড়ায় পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর দুই পরিবারের বৈঠকে ডিভোর্সের প্রস্তাব ওঠে। পরবর্তীতে ২৫ নভেম্বর আসিফ আল হাসান আইনগতভাবে ডিভোর্স প্রদান করেন। এরপর থেকে সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমি আইনি বিরোধ শুরু করেন। আসিফ পরিবারের দাবি, ডিভোর্সের পর একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
সূত্র বলছে, গত ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সুবর্ণা সুলতানা সুমী নিজেকে এএসপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা, তার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে আসিফ পারিবার দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিভোর্সের পর সুমী পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন দপ্তরে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অপরদিকে, পুলিশের এই কর্মকর্তাও ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যেখানে তিনি হয়রানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়াও ডিভোর্সের প্রায় ৩৫ দিন পর সুবর্ণা সুলতানা সুমী ঢাকা জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বলা হয়েছে, আসিফ তার পরিবার যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতেন। তবে সেই মামলার অজুহাত ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার দিনই পুলিশের উপস্থিতিতে বাসা থেকে সকল মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও আসিফ পরিবার অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে পুলিশের এই কর্মকর্তা উচ্চ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিন লাভ করেন। আসিফ পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন থানায় একের পর এক জিডি ও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। এমনকি ২০২২ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় নতুন করে মামলা রেকর্ড করা হয়, যার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
আসিফের বাবা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা মানসিক ও পেশাগতভাবে চরম বিধ্বস্ত হচ্ছেন।
তবে আসিফ পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যক্তিগত ০১৭২৮–৭৯ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার মন্তব্য ও বক্তব্য কোনটিই জানা সম্ভব হয়নি।
তবে আসিফ পরিবার বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিভোর্সের এক বছর পরও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট সময় :

ডিভোর্সের বছর পার হলেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডিভোর্সের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবার। ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা নাম আসিফ আল হাসান। তিনি ৩৮ তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত আছেন। তবে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিফ আল হাসান ও সুবর্ণা সুলতানা সুমির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বোঝা পড়ায় পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর দুই পরিবারের বৈঠকে ডিভোর্সের প্রস্তাব ওঠে। পরবর্তীতে ২৫ নভেম্বর আসিফ আল হাসান আইনগতভাবে ডিভোর্স প্রদান করেন। এরপর থেকে সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমি আইনি বিরোধ শুরু করেন। আসিফ পরিবারের দাবি, ডিভোর্সের পর একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
সূত্র বলছে, গত ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সুবর্ণা সুলতানা সুমী নিজেকে এএসপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা, তার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে আসিফ পারিবার দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিভোর্সের পর সুমী পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন দপ্তরে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অপরদিকে, পুলিশের এই কর্মকর্তাও ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যেখানে তিনি হয়রানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়াও ডিভোর্সের প্রায় ৩৫ দিন পর সুবর্ণা সুলতানা সুমী ঢাকা জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বলা হয়েছে, আসিফ তার পরিবার যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতেন। তবে সেই মামলার অজুহাত ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার দিনই পুলিশের উপস্থিতিতে বাসা থেকে সকল মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও আসিফ পরিবার অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে পুলিশের এই কর্মকর্তা উচ্চ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিন লাভ করেন। আসিফ পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন থানায় একের পর এক জিডি ও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। এমনকি ২০২২ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় নতুন করে মামলা রেকর্ড করা হয়, যার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
আসিফের বাবা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা মানসিক ও পেশাগতভাবে চরম বিধ্বস্ত হচ্ছেন।
তবে আসিফ পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যক্তিগত ০১৭২৮–৭৯ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার মন্তব্য ও বক্তব্য কোনটিই জানা সম্ভব হয়নি।
তবে আসিফ পরিবার বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।