ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

তারাকান্দায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

  তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদিকে হুমকি দিচ্ছেন বিবাদীর ভাইসহ অন্যান্যরা। একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলা আসামী গ্রেপ্তার করা অভিযোগ করেছেন বাদী।
সুত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার কাকনি ইউনিয়নের বগিরপাড়া এলাকায় নিহত ফখর উদ্দিনের বাড়ির পাশে মুদির দোকান ছিল। ফখর উদ্দিন দোকান পরিচালনা করতেন। দোকানের পাশে মাঠের মতো খালি জায়গা ছিল। ওই মাঠে এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খেলত। ঘটনার দিন ক্রিকেট বল বারবার দোকানে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেদের দূরে গিয়ে খেলতে বলেন ফখর উদ্দিন। এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মাঝে মারামারি সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ ফখর উদ্দিনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় উদ্ধার স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরদিন বিকালে নিহতের ছেলে জাকিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৮ জনের নামে ও অজ্ঞাত ৭/৮ জন আসামি করে তারাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে নুর ইসলাম হক হীরা (২২), আবুল হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৫), মৃত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী লাইলী বেগম (৪৯), মো. শরাফত আলীর স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন (৪০), মো. মরম আলীর স্ত্রী রাবিয়া খাতুন (৪০), মো. আবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই উপজেলার কাকনি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার পর থেকে আসামি খোকন মিয়ার ভাই সিরাজুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, রফিকুল ইসলাম মামলা তুলে নিতে নিহত ফখর উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সাথে পুলিশ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অপর আসামিদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ করছেন মামলার বাদি জাকিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমার বাবাকে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর আমি থানায় মামলা করি। মামলার পর খেকে মামলা আসামি খোকন মিয়ার ভাই সিরাজুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, রফিকুল ইসলাম মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এদিকে, সিরাজুল নিজের বাড়িতে নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের লোকদের আসামি করে মামলা দিয়েছে। হুমকির বিষয়টি আমি ফুলপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে, হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা কোন হুমকি দেয়নি। আমাদের উপর মিখ্যা অপরাদ দিচ্ছে বাদী পক্ষ।
তারাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারেক বলেন, হুমকি বিষয়টি বাদি পক্ষ আমাদের জানায়নি। যদি হুমকি দিয়ে তাহলে বাদি পক্ষ সাধারণ ডায়েরি করবেন। আমরা সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেব। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। আশা করছি, অচিরেই আসামিদের ধরতে সক্ষম হবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তারাকান্দায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদিকে হুমকি দিচ্ছেন বিবাদীর ভাইসহ অন্যান্যরা। একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলা আসামী গ্রেপ্তার করা অভিযোগ করেছেন বাদী।
সুত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার কাকনি ইউনিয়নের বগিরপাড়া এলাকায় নিহত ফখর উদ্দিনের বাড়ির পাশে মুদির দোকান ছিল। ফখর উদ্দিন দোকান পরিচালনা করতেন। দোকানের পাশে মাঠের মতো খালি জায়গা ছিল। ওই মাঠে এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খেলত। ঘটনার দিন ক্রিকেট বল বারবার দোকানে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেদের দূরে গিয়ে খেলতে বলেন ফখর উদ্দিন। এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মাঝে মারামারি সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ ফখর উদ্দিনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় উদ্ধার স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরদিন বিকালে নিহতের ছেলে জাকিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৮ জনের নামে ও অজ্ঞাত ৭/৮ জন আসামি করে তারাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে নুর ইসলাম হক হীরা (২২), আবুল হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৫), মৃত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী লাইলী বেগম (৪৯), মো. শরাফত আলীর স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন (৪০), মো. মরম আলীর স্ত্রী রাবিয়া খাতুন (৪০), মো. আবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই উপজেলার কাকনি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার পর থেকে আসামি খোকন মিয়ার ভাই সিরাজুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, রফিকুল ইসলাম মামলা তুলে নিতে নিহত ফখর উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সাথে পুলিশ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অপর আসামিদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ করছেন মামলার বাদি জাকিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমার বাবাকে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর আমি থানায় মামলা করি। মামলার পর খেকে মামলা আসামি খোকন মিয়ার ভাই সিরাজুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, রফিকুল ইসলাম মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এদিকে, সিরাজুল নিজের বাড়িতে নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের লোকদের আসামি করে মামলা দিয়েছে। হুমকির বিষয়টি আমি ফুলপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে, হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা কোন হুমকি দেয়নি। আমাদের উপর মিখ্যা অপরাদ দিচ্ছে বাদী পক্ষ।
তারাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারেক বলেন, হুমকি বিষয়টি বাদি পক্ষ আমাদের জানায়নি। যদি হুমকি দিয়ে তাহলে বাদি পক্ষ সাধারণ ডায়েরি করবেন। আমরা সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেব। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। আশা করছি, অচিরেই আসামিদের ধরতে সক্ষম হবো।