তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৫
- আপডেট সময় : ১০৩ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর অভ্যন্তরে গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে পুলিশের অভিযানে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও ৫ জন পলাতকসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গুঞ্জর খা দিঘীর পাড় এলাকায় তিস্তা নদীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এ সংক্রান্তে বিভিন্ন রাধা দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তিস্তা নদী হইতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি মাসিক সমন্বয় সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ডিমলা থানা পুলিশ গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
অভিযানকালে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় ৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব খড়িবাড়ি দিঘীর পাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৬), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলিয়ার রহমান (৪৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম (৪৫), মশিয়ার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৫)।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ৫ জন পালিয়ে যায়। পলাতকরা হলেন— মিন্টু মিয়া (৪৫), মমিনুর রহমান (৪৫), রবিউল ইসলাম (৪৩), মমিনুর রহমান (৪২) এবং হাফিজুল ইসলাম (৪৮)। পালানোর সময় তারা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিন ট্রলিতে তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে পাথর উত্তোলনের বিপুল পরিমাণ মালামাল ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ডিমলা থানার এসআই পঙ্কজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১০ মার্চ ২৬ ইং।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের এই অভিযান তিস্তা নদীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।















