ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

ত্রিশালে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা, কালবৈশাখির ভয়

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০৫ বার পড়া হয়েছে

0-4608x3466-0-0#

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন জুড়ে বিস্তীর্ণ মাঠে এখন দুলছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। সবুজের বুক চিরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। রোদ আর হালকা বাতাসে দিগন্তজোড়া ক্ষেত যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামান্য কিছু অঞ্চলে ধান কাটা শুরু হলেও উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম-কৃষকের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রত্যাশার সময়। তবে এই আনন্দের মাঝেও দেখা দিচ্ছে কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টির দুশ্চিন্তা।
মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কালবৈশাখির আশঙ্কা আর শ্রমিকসংকট কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ‘চিটা’ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় ধানগাছ এখন সতেজ, দানাও ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে। উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব ভয়ে আছি। দিন কিংবা রাতে মাঝে মধ্যেই কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে এখনো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর কয়েকটা দিন ভালো থাকলেই হয়। যদি বড় ঝড় না হয়, তাহলে ফলন ভালোই হবে।” কৃষকদের মতে, এই সময়টাতে মাঝারি বৃষ্টি উপকারী হলেও কালবৈশাখির ঝড় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কাটার আগেই ফলন নষ্ট করে দিতে পারে। ধান পাকতে শুরু করলেও এখনই শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।
স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে হয়, এতে খরচও বাড়ছে।
মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল হক বলেন,ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা আসে, তারা বেশি মজুরি চায়। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, “ধান এখন পাকার পথে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি-যেন সময়মতো ধান কাটতে পারেন এবং ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” সব উদ্বেগের মাঝেও কৃষকের চোখে এখন স্বপ্ন। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারলেই শুরু হবে নবান্নের আনন্দ-পিঠা-পুলি, নতুন চালের ভাত আর গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ত্রিশালে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা, কালবৈশাখির ভয়

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন জুড়ে বিস্তীর্ণ মাঠে এখন দুলছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। সবুজের বুক চিরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। রোদ আর হালকা বাতাসে দিগন্তজোড়া ক্ষেত যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামান্য কিছু অঞ্চলে ধান কাটা শুরু হলেও উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম-কৃষকের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রত্যাশার সময়। তবে এই আনন্দের মাঝেও দেখা দিচ্ছে কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টির দুশ্চিন্তা।
মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কালবৈশাখির আশঙ্কা আর শ্রমিকসংকট কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ‘চিটা’ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় ধানগাছ এখন সতেজ, দানাও ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে। উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব ভয়ে আছি। দিন কিংবা রাতে মাঝে মধ্যেই কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে এখনো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর কয়েকটা দিন ভালো থাকলেই হয়। যদি বড় ঝড় না হয়, তাহলে ফলন ভালোই হবে।” কৃষকদের মতে, এই সময়টাতে মাঝারি বৃষ্টি উপকারী হলেও কালবৈশাখির ঝড় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কাটার আগেই ফলন নষ্ট করে দিতে পারে। ধান পাকতে শুরু করলেও এখনই শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।
স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে হয়, এতে খরচও বাড়ছে।
মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল হক বলেন,ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা আসে, তারা বেশি মজুরি চায়। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, “ধান এখন পাকার পথে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি-যেন সময়মতো ধান কাটতে পারেন এবং ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” সব উদ্বেগের মাঝেও কৃষকের চোখে এখন স্বপ্ন। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারলেই শুরু হবে নবান্নের আনন্দ-পিঠা-পুলি, নতুন চালের ভাত আর গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব।