পাকুন্দিয়ায় সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২৪ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরটেকী গ্রামের মো. মাহতাবউদ্দিনের মালিকানাধীন দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মাহতাব উদ্দিন বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা ডিগ্রীরচর এলাকার মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে মো: রিয়াজ উদ্দিন, মো. রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ মিয়া, এরশাদ মিয়া মিয়ার স্ত্রী মোছা. খালেদা আক্তার ও ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী ইরমা আক্তার।
ভুক্তভোগী মাহতাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একই এলাকার মো. রিয়াজ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ওই জমিটি অন্যায়ভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত ০৬ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ১১ টার দিকে মাহতাবউদ্দিন তার নিজ জমিতে সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই সময় মো. রিয়াজউদ্দিন ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয় এবং নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে।
মাহতাবউদ্দিন এই অন্যায্য বাধার প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাকে মারধর করতে উদ্যত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা গায়ের জোরে নির্মাণাধীন বাউন্ডারি ওয়ালটি গুঁড়িয়ে দেয়। ঘটনার সময় বিবাদীরা ভুক্তভোগীকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদী পক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। কোনো সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় বর্তমানে মাহতাব উদ্দিন জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমার শ্বশুর ও স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন আমাকে বাধা প্রদান করে। তারা আমাকে মারধরের হুমকি দেয় এবং সারাদিন কাজ করতে দেয়নি। এক পর্যায়ে তারা অবৈধভাবে আমার জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে। আমি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাতের আঁধারে তারা আমার নির্মাণাধীন প্রাচীরটি ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই এবং দেশবাসীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী মাহতাব উদ্দিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় যেকোনো সময় আমার জমি দখলসহ জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। ভবিষ্যতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সহিংসতা এড়াতে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
অভিযুক্ত মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি বাড়িতে অনুপস্থিত থাকাকালীন কে বা কারা দেয়াল ভাঙচুর করেছে, তা আমার জানা নেই। বর্তমানে এই ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে আমাকে মিথ্যা মামলায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দা আব্দুর রউফ জানান, সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, দুই পক্ষ মিলে মোট ৫ ফুট জায়গা রাস্তার জন্য ছাড়বেন। সেই অনুযায়ী একটি সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দেয়ালটি নির্মাণের সময় একপাশে ২ ফুট ছাড়া হলেও অন্যপাশে ৩ ফুটের জায়গায় মাত্র ১ ফুট ছাড়া হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী দেয়ালটি সরিয়ে আরও ১ ফুট জায়গা ছাড়তে হবে। এরই মাঝে রাতের আঁধারে কে বা কারা দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলায় বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জিডির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আমরা আদালতের অনুমতি চেয়েছি। আদালতের আদেশ পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং সেই অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন জমা দেব।














