ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

বাগমারায় এলজিইডির কাজে নিম্নমানের অভিযোগ, তথ্য দিতে অনীহা প্রকৌশলীর

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; algolist: 0; multi-frame: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; motionR: 0; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 87.03099;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: 0;weatherinfo: null;temperature: 47;

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর রহমানের সাথে। তিনি দাম্ভিকতার সাথে সাংবাদিককে জানান, তথ্য থাকলে আপনার যা ইচ্ছা করেন। শুধু বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী নয়, জেলা এলজিইডি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট তথ্য চাইলেও তথ্য দেওয়া হচ্ছেনা গণমাধ্যমকে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া গ্রামে চলমান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে নির্ধারিত বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে মানসম্মত উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, এইভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বানাচ্ছে, আর এখানে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। এতে শুধু জনগণের টাকাই নষ্ট হচ্ছেনা, বাড়ছে জনভোগান্তি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওয়ারেস আলী বাবু @ মুরগি বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, কাজ দেখার জন্য অফিস আছে, তারা দেখবে। আপনার যা করার করেন। তার এমন বক্তব্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় পাওয়া গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখানে এমন হওয়ার কথা না। আপনি বললে তো হবে না। সাংবাদিকের কাছে ভিডিও ও স্থিরচিত্র থাকার কথা জানানো হলেও তিনি বিষয়টির গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যদি এরকম হয়, তাহলে আপনার যা করার করেন। এমন কল রেকর্ড প্রতিবেকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি’র জেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দপ্তরের উচ্চমান সহকারী শফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাওয়া হয়, এই কাজটি কোন ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান করছেন? জবাবে তিনি জানান, স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব না।প্রতিবেদক নিরাস হয়ে বুঝতে পারলেন, এই দপ্তরের তথ্য গোপস করছে। কেন তথ্য গোপন করছে, বেশ প্রশ্ন বিদ্ধ! অথচ শুধু সাংবাদিক নয়, একজন সাধারণ নাগরিক সকল প্রকল্পের তথ্য জানার অধিকার রাখেন। সেখানে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, সেই প্রকল্পের বাজেট কত, কতদিনের প্রকল্প, সেই প্রকল্পের স্টিমেট কি কি রয়েছে? কোন তথ্য দিবেন না বলে জানাচ্ছে জেলা এলজিইডি অফিস।
পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখান থেকেও সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে সাংবাদিককে পুনরায় জেলা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মলয় কুমার চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী রুমেল হায়দারকে জানানোর পরামর্শ দেন।
এভাবে একাধিক দপ্তরে ঘুরেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পেছনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়েরও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাগমারায় এলজিইডির কাজে নিম্নমানের অভিযোগ, তথ্য দিতে অনীহা প্রকৌশলীর

আপডেট সময় :

বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর রহমানের সাথে। তিনি দাম্ভিকতার সাথে সাংবাদিককে জানান, তথ্য থাকলে আপনার যা ইচ্ছা করেন। শুধু বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী নয়, জেলা এলজিইডি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট তথ্য চাইলেও তথ্য দেওয়া হচ্ছেনা গণমাধ্যমকে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া গ্রামে চলমান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে নির্ধারিত বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে মানসম্মত উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, এইভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বানাচ্ছে, আর এখানে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। এতে শুধু জনগণের টাকাই নষ্ট হচ্ছেনা, বাড়ছে জনভোগান্তি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওয়ারেস আলী বাবু @ মুরগি বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, কাজ দেখার জন্য অফিস আছে, তারা দেখবে। আপনার যা করার করেন। তার এমন বক্তব্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় পাওয়া গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখানে এমন হওয়ার কথা না। আপনি বললে তো হবে না। সাংবাদিকের কাছে ভিডিও ও স্থিরচিত্র থাকার কথা জানানো হলেও তিনি বিষয়টির গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যদি এরকম হয়, তাহলে আপনার যা করার করেন। এমন কল রেকর্ড প্রতিবেকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি’র জেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দপ্তরের উচ্চমান সহকারী শফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাওয়া হয়, এই কাজটি কোন ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান করছেন? জবাবে তিনি জানান, স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব না।প্রতিবেদক নিরাস হয়ে বুঝতে পারলেন, এই দপ্তরের তথ্য গোপস করছে। কেন তথ্য গোপন করছে, বেশ প্রশ্ন বিদ্ধ! অথচ শুধু সাংবাদিক নয়, একজন সাধারণ নাগরিক সকল প্রকল্পের তথ্য জানার অধিকার রাখেন। সেখানে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, সেই প্রকল্পের বাজেট কত, কতদিনের প্রকল্প, সেই প্রকল্পের স্টিমেট কি কি রয়েছে? কোন তথ্য দিবেন না বলে জানাচ্ছে জেলা এলজিইডি অফিস।
পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখান থেকেও সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে সাংবাদিককে পুনরায় জেলা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মলয় কুমার চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী রুমেল হায়দারকে জানানোর পরামর্শ দেন।
এভাবে একাধিক দপ্তরে ঘুরেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পেছনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়েরও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।