ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুর সরকারি কলেজ মাঠে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় ইকবাল আমিন ওরফে সম্রাট (২০) নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত আন্দোলনে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজগেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় এক ঘন্টার বেশি সময় সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস্ত করলে সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাদারীপুর শহরের কলেজগেটে এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বহিরাগতদের হামলায় গুরতর আহত শিক্ষার্থী ইকবাল আমিনকে বুধবার বিকেলে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকায়।
সাধারণ শিক্ষার্থী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক কলেজের ভিতরে মাদক সেবন করছিল। এর প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থী ইকবালসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই ঘটনার জেরে ইকবাল বুধবার বিকেলে কলেজ মাঠে খেলতে গেলে তাকে একা পেয়ে বেদম মারধর করেন বহিরাগত কয়েকজন যুবক। পরে গুরতর আহত অবস্থায় তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন তার সহপাঠীরা। এরপরেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও কলেজ প্রঙ্গনে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ, সীমানা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কলেজের সংযোগ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা কলেজ গেটে অবস্থান নিয়ে মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। পুলিশের পক্ষ থেকে রাতের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করার আশ্বস্ত করা হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।
কিন্তু রাতে অভিযুক্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার না হলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রথমে কলেজ প্রঙ্গনে বিক্ষোভ করলেও পরে ১১টার দিকে তারা মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ৩ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে দাবিগুলো করেছে তা যৌক্তিক। তাদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়া হবে। কলেজের পকেট গেটগুলো বন্ধ করা হবে। অতিদ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হামলাকারীদের আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া কলেজের শিক্ষকেরা আহত ওই শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিতেও সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে জিল্লুর রহমান বলেন, বুধবার রাতের মধ্যে মাদকসন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার কথা বলা হলেও তা প্রশাসন করতে পারি নাই। তাই আজকে বাধ্য হয়ে আমরা আবারো রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। এখন আমরা ৩ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নিয়েছি। যদি এই সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না করা হলে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
আল আমিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে সন্ধ্যার পরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবার করায় হলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা করা হলো। কলেজ প্রশাসন প্রথমে চুপচাপ ছিল। পরে আন্দোলন জোড়ালো হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি আদায়ে আশ্বস্ত করলেও তারা দাবি মেনে নেয়নি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত থাকতে অনুরোধ জানাই। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদারীপুরে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট সময় :

মাদারীপুর সরকারি কলেজ মাঠে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় ইকবাল আমিন ওরফে সম্রাট (২০) নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত আন্দোলনে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজগেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় এক ঘন্টার বেশি সময় সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস্ত করলে সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাদারীপুর শহরের কলেজগেটে এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বহিরাগতদের হামলায় গুরতর আহত শিক্ষার্থী ইকবাল আমিনকে বুধবার বিকেলে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকায়।
সাধারণ শিক্ষার্থী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক কলেজের ভিতরে মাদক সেবন করছিল। এর প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থী ইকবালসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই ঘটনার জেরে ইকবাল বুধবার বিকেলে কলেজ মাঠে খেলতে গেলে তাকে একা পেয়ে বেদম মারধর করেন বহিরাগত কয়েকজন যুবক। পরে গুরতর আহত অবস্থায় তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন তার সহপাঠীরা। এরপরেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও কলেজ প্রঙ্গনে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ, সীমানা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কলেজের সংযোগ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা কলেজ গেটে অবস্থান নিয়ে মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। পুলিশের পক্ষ থেকে রাতের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করার আশ্বস্ত করা হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।
কিন্তু রাতে অভিযুক্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার না হলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রথমে কলেজ প্রঙ্গনে বিক্ষোভ করলেও পরে ১১টার দিকে তারা মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ৩ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে দাবিগুলো করেছে তা যৌক্তিক। তাদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়া হবে। কলেজের পকেট গেটগুলো বন্ধ করা হবে। অতিদ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হামলাকারীদের আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া কলেজের শিক্ষকেরা আহত ওই শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিতেও সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে জিল্লুর রহমান বলেন, বুধবার রাতের মধ্যে মাদকসন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার কথা বলা হলেও তা প্রশাসন করতে পারি নাই। তাই আজকে বাধ্য হয়ে আমরা আবারো রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। এখন আমরা ৩ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নিয়েছি। যদি এই সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না করা হলে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
আল আমিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে সন্ধ্যার পরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবার করায় হলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা করা হলো। কলেজ প্রশাসন প্রথমে চুপচাপ ছিল। পরে আন্দোলন জোড়ালো হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি আদায়ে আশ্বস্ত করলেও তারা দাবি মেনে নেয়নি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত থাকতে অনুরোধ জানাই। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।