ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাদক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে নড়াইলে আলোচনা Logo ঘাটাইলে মিন্টু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন Logo নান্দাইলে ব্রিজের পাশের মাটি সরে দুর্ভোগ, ঝুঁকিতে দুই উপজেলার মানুষ Logo নালিতাবাড়ীতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা Logo গোলাপগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৩ Logo মুন্সিগঞ্জে ডাকাতি হওয়া ৬৪৩ কার্টন সয়াবিন তেল শেরপুরে উদ্ধার, আটক ২ Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী Logo ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযানে তক্ষক, মাদক ও ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের রায় Logo কোস্ট গার্ডের বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন

মুক্তাগাছায় ঢোলের তালে তালে জমে উঠলো লাঠিখেলা

রিপন সারওয়ার, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)
  • আপডেট সময় : ২৩১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে এলো মুক্তাগাছায়। গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের সৈয়দপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর লাঠিখেলার আসর।
সৈয়দপাড়া গ্রামের তরুণ সমাজের উদ্যোগে ও এনামুল, আশরাফ ও ফারুক হোসেনের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন গ্রামীণ উৎসবের আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা কালামিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজেদুল করিম সোহেল, মোঃ হানিফ, হাসমত আলী, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, আব্দুল জলিল লেবু, মোস্তাক মাস্টার, শহীদুল ইসলাম মাস্টারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঢোলের তালে তালে শুরু হয় লাঠিখেলা। সৈয়দপাড়া গ্রামের বিখ্যাত লাঠিখেলোয়াড় হযরত আলী, মজনু মিয়া, আব্দুল খালেক, মিস্টার, এছহাক আলীসহ আরও অনেকে অংশ নেন এ খেলায়। তাঁদের চমকপ্রদ কৌশল, দ্রুতগতির লাঠি ঘূর্ণন আর শক্তির প্রকাশে দর্শকরা হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়েন। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
লাঠিখেলা শেষে মঞ্চে ওঠেন মুক্তাগাছার পুদুরবাড়ী এলাকার বিখ্যাত যাদুশিল্পী মোঃ ফিরোজ আহমেদ ও তাঁর দুই সহযোগী হাবিব ও ফরহাদ। একের পর এক রোমাঞ্চকর যাদু প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হয়ে যান হাজারো দর্শক। শিশু থেকে বয়স্ক-সবাই মেতে ওঠেন আনন্দে ও বিস্ময়ে।
স্থানীয়রা বলেন, এমন আয়োজন এখন আর সহজে দেখা যায় না। আজকের এই অনুষ্ঠান আমাদের শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রাণ লাঠিখেলা ও লোকজ বিনোদনের এমন মিলনমেলা প্রমাণ করে-বাংলার সংস্কৃতি আজও জীবন্ত শুধু একটু যত্ন আর ভালোবাসাই পারে একে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুক্তাগাছায় ঢোলের তালে তালে জমে উঠলো লাঠিখেলা

আপডেট সময় :

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে এলো মুক্তাগাছায়। গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের সৈয়দপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর লাঠিখেলার আসর।
সৈয়দপাড়া গ্রামের তরুণ সমাজের উদ্যোগে ও এনামুল, আশরাফ ও ফারুক হোসেনের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন গ্রামীণ উৎসবের আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা কালামিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজেদুল করিম সোহেল, মোঃ হানিফ, হাসমত আলী, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, আব্দুল জলিল লেবু, মোস্তাক মাস্টার, শহীদুল ইসলাম মাস্টারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঢোলের তালে তালে শুরু হয় লাঠিখেলা। সৈয়দপাড়া গ্রামের বিখ্যাত লাঠিখেলোয়াড় হযরত আলী, মজনু মিয়া, আব্দুল খালেক, মিস্টার, এছহাক আলীসহ আরও অনেকে অংশ নেন এ খেলায়। তাঁদের চমকপ্রদ কৌশল, দ্রুতগতির লাঠি ঘূর্ণন আর শক্তির প্রকাশে দর্শকরা হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়েন। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
লাঠিখেলা শেষে মঞ্চে ওঠেন মুক্তাগাছার পুদুরবাড়ী এলাকার বিখ্যাত যাদুশিল্পী মোঃ ফিরোজ আহমেদ ও তাঁর দুই সহযোগী হাবিব ও ফরহাদ। একের পর এক রোমাঞ্চকর যাদু প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হয়ে যান হাজারো দর্শক। শিশু থেকে বয়স্ক-সবাই মেতে ওঠেন আনন্দে ও বিস্ময়ে।
স্থানীয়রা বলেন, এমন আয়োজন এখন আর সহজে দেখা যায় না। আজকের এই অনুষ্ঠান আমাদের শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রাণ লাঠিখেলা ও লোকজ বিনোদনের এমন মিলনমেলা প্রমাণ করে-বাংলার সংস্কৃতি আজও জীবন্ত শুধু একটু যত্ন আর ভালোবাসাই পারে একে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে।