ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তাগাছায় সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধকে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সম্পত্তি দখল করে নিতে এক বৃদ্ধকে ২৭দিন ধরে শিকলে বেঁধে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছে বোন-বোন জামাই ও ভাগ্নে মিলে| সফর আলী (৬৬) নামের ওই বৃদ্ধকে কৌশলে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বলে প্রচার করলেও তার ছেলে এবং এলাকাবাসী বলছে তিনি একজন সুস্থ ব্যক্তি| তবে তিনি একটি বিশেষ তরিকায় বিশ্বাসী বলে চলেন ভিন্ন রিতিতে| ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের করমোল্লাপুর গ্রামে|
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পোস্ট হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে| ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিদখলে নিষেধ করে আসলেও শিকলবন্দি অবস্থা থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করমোল্লাপুর গ্রামের দরিদ্র সফর আলী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ধরণের ধর্মীয় তরিকা মেনে চলেন| তার স্ত্রী পুত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র বসবাস করায় তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করেন| তার চলাচলকে পুঁজি করে তার বোনজামাই মোহাম্মদ আলী, বোন হিন্দুরী খাতুন ও বোনের ছেলে মো. জক্কু মিয়া মিলে ˆপত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ১২ শতাংশ জমি দখলের পায়তারা করে| সেজন্য তারা সফর আলীকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন লোক হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা চালায়| গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে সেই জমি দখল করতে গেলে সফর আলী তাতে বাঁধা দেন| সেদিন থেকে সফর আলীকে ধরে গোয়াল ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে| দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে তিনি শিকলবন্দি অবস্থায় চিড়িয়া খানায় রাখা পশুর চেয়েও কষ্টের জীবনযাপন করছেন|
খবর পেয়ে তার ছেলে মো. মন্টু মিয়া গত ৪ এপ্রিল বাবাকে উদ্ধার করতে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছেলেদেরকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করতে এবং ভাগ্নে জক্কু মিয়াকে জমি দখল না করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান|
স্থানীয়রা জানান, নির্দিষ্ট একটি তরিকা মেনে চালায় সফর আলীকে আগে থেকেই লোকজন পাগলা বলে ডাকেন| তার স্ত্রী এবং ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র থাকায় তিনি একাই পৈত্রিক ভিটায় টিনের ছাপড়া ঘর উঠিয়ে থাকেন| তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে জমি লিখে নিতে চায়| এ নিয়ে এলাকার গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার শালিস করে মীমাংসার চেষ্টাও করেছেন| কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা হয় নি| বোন ও বোনের ছেলে জমি লিখে নেওয়ার জন্য মানসিক ভারসাম্যহীন সফর উদ্দিনকে শিকলে বেধে রেখেছে| সেখানে তাকে ঠিকমতো কোন খাবার পানিও দেওয়া হয়নি|
তার ছেলে হুরমুজ আলী বলেন, আমরা বড় অসহায়| দীর্ঘদিন ধরে আমার ফুফু ও ফুফাতো ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার কাছ থেকে এই জমি লিখে নিতে পায়তারা করছে| এ জমি লিখে না দেওয়ায় তারা আমার বাবাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেন| বাবাকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছে| আমরা বলেছি তাকে ছেড়ে দিলে আমরা নিয়ে যাবো| কিন্তু ফুফু আর তার ছেলে মিলে আমাদের কোন কথাই শুনছে না| এলাকাবাসী চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন| পুলিশকে জানালেও কোন লাভ হয়নি|
সফর আলীর চাচাতো ভাই রোস্তম আলী বলেন, চিশতিয়া তরিকা মেনে চলায় মানুষ তাকে পাগলা বলে কিন্তু সে আসলেই কোন পাগল নয়| বোন আর ভাগ্নেরা মিলে জমিটুকু নেওয়ার জন্যই তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখেছে|
মো. রব্বানী মিয়া নামের একজন ভ্যানচালক বলেন, ‘সফর আলী আমার গুরু| আমরা চিশতিয়া তরিকা মেনে চলি| সেজন্য মানুষ আমাদেরকে পাগলা বলে| কিন্তু সফর আলী কোন পাগল বা তার কোন মানসিক সমস্যা নাই| চক্রান্ত করে তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখে জায়গা-জমি নেবার চেষ্টা করছে| তিনি তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন|
সাবেক ইউপি সদস্য মো. তারা মিয়া বলেন, সফর আলীর ˆপত্রিক সম্পত্তির এক অংশে সে আরেক অংশে তার ভাগ্নে ঘর উঠিয়ে থাকেন| সম্প্রতি সফর আলীর ঘর তার ভাগ্নে জক্কু মিয়া ভেঙ্গে দিয়ে তাকে মারধর করে বেধে রেখেছে| আমরা তাকে ছেলে দিতে বললেও তারা কথা কানে নিচ্ছে না| পুলিশ আসলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি| বিষয়টি খুবই অমানবিক| এর বিচার হওয়া দরকার|
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু ওসি বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে এ ঘটনার কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন।
মুক্তাগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি |

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুক্তাগাছায় সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধকে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সম্পত্তি দখল করে নিতে এক বৃদ্ধকে ২৭দিন ধরে শিকলে বেঁধে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছে বোন-বোন জামাই ও ভাগ্নে মিলে| সফর আলী (৬৬) নামের ওই বৃদ্ধকে কৌশলে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বলে প্রচার করলেও তার ছেলে এবং এলাকাবাসী বলছে তিনি একজন সুস্থ ব্যক্তি| তবে তিনি একটি বিশেষ তরিকায় বিশ্বাসী বলে চলেন ভিন্ন রিতিতে| ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের করমোল্লাপুর গ্রামে|
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পোস্ট হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে| ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিদখলে নিষেধ করে আসলেও শিকলবন্দি অবস্থা থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করমোল্লাপুর গ্রামের দরিদ্র সফর আলী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ধরণের ধর্মীয় তরিকা মেনে চলেন| তার স্ত্রী পুত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র বসবাস করায় তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করেন| তার চলাচলকে পুঁজি করে তার বোনজামাই মোহাম্মদ আলী, বোন হিন্দুরী খাতুন ও বোনের ছেলে মো. জক্কু মিয়া মিলে ˆপত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ১২ শতাংশ জমি দখলের পায়তারা করে| সেজন্য তারা সফর আলীকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন লোক হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা চালায়| গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে সেই জমি দখল করতে গেলে সফর আলী তাতে বাঁধা দেন| সেদিন থেকে সফর আলীকে ধরে গোয়াল ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে| দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে তিনি শিকলবন্দি অবস্থায় চিড়িয়া খানায় রাখা পশুর চেয়েও কষ্টের জীবনযাপন করছেন|
খবর পেয়ে তার ছেলে মো. মন্টু মিয়া গত ৪ এপ্রিল বাবাকে উদ্ধার করতে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছেলেদেরকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করতে এবং ভাগ্নে জক্কু মিয়াকে জমি দখল না করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান|
স্থানীয়রা জানান, নির্দিষ্ট একটি তরিকা মেনে চালায় সফর আলীকে আগে থেকেই লোকজন পাগলা বলে ডাকেন| তার স্ত্রী এবং ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র থাকায় তিনি একাই পৈত্রিক ভিটায় টিনের ছাপড়া ঘর উঠিয়ে থাকেন| তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে জমি লিখে নিতে চায়| এ নিয়ে এলাকার গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার শালিস করে মীমাংসার চেষ্টাও করেছেন| কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা হয় নি| বোন ও বোনের ছেলে জমি লিখে নেওয়ার জন্য মানসিক ভারসাম্যহীন সফর উদ্দিনকে শিকলে বেধে রেখেছে| সেখানে তাকে ঠিকমতো কোন খাবার পানিও দেওয়া হয়নি|
তার ছেলে হুরমুজ আলী বলেন, আমরা বড় অসহায়| দীর্ঘদিন ধরে আমার ফুফু ও ফুফাতো ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার কাছ থেকে এই জমি লিখে নিতে পায়তারা করছে| এ জমি লিখে না দেওয়ায় তারা আমার বাবাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেন| বাবাকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছে| আমরা বলেছি তাকে ছেড়ে দিলে আমরা নিয়ে যাবো| কিন্তু ফুফু আর তার ছেলে মিলে আমাদের কোন কথাই শুনছে না| এলাকাবাসী চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন| পুলিশকে জানালেও কোন লাভ হয়নি|
সফর আলীর চাচাতো ভাই রোস্তম আলী বলেন, চিশতিয়া তরিকা মেনে চলায় মানুষ তাকে পাগলা বলে কিন্তু সে আসলেই কোন পাগল নয়| বোন আর ভাগ্নেরা মিলে জমিটুকু নেওয়ার জন্যই তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখেছে|
মো. রব্বানী মিয়া নামের একজন ভ্যানচালক বলেন, ‘সফর আলী আমার গুরু| আমরা চিশতিয়া তরিকা মেনে চলি| সেজন্য মানুষ আমাদেরকে পাগলা বলে| কিন্তু সফর আলী কোন পাগল বা তার কোন মানসিক সমস্যা নাই| চক্রান্ত করে তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখে জায়গা-জমি নেবার চেষ্টা করছে| তিনি তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন|
সাবেক ইউপি সদস্য মো. তারা মিয়া বলেন, সফর আলীর ˆপত্রিক সম্পত্তির এক অংশে সে আরেক অংশে তার ভাগ্নে ঘর উঠিয়ে থাকেন| সম্প্রতি সফর আলীর ঘর তার ভাগ্নে জক্কু মিয়া ভেঙ্গে দিয়ে তাকে মারধর করে বেধে রেখেছে| আমরা তাকে ছেলে দিতে বললেও তারা কথা কানে নিচ্ছে না| পুলিশ আসলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি| বিষয়টি খুবই অমানবিক| এর বিচার হওয়া দরকার|
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু ওসি বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে এ ঘটনার কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন।
মুক্তাগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি |