মুক্তাগাছায় সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধকে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সম্পত্তি দখল করে নিতে এক বৃদ্ধকে ২৭দিন ধরে শিকলে বেঁধে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছে বোন-বোন জামাই ও ভাগ্নে মিলে| সফর আলী (৬৬) নামের ওই বৃদ্ধকে কৌশলে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বলে প্রচার করলেও তার ছেলে এবং এলাকাবাসী বলছে তিনি একজন সুস্থ ব্যক্তি| তবে তিনি একটি বিশেষ তরিকায় বিশ্বাসী বলে চলেন ভিন্ন রিতিতে| ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের করমোল্লাপুর গ্রামে|
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পোস্ট হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে| ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিদখলে নিষেধ করে আসলেও শিকলবন্দি অবস্থা থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করমোল্লাপুর গ্রামের দরিদ্র সফর আলী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ধরণের ধর্মীয় তরিকা মেনে চলেন| তার স্ত্রী পুত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র বসবাস করায় তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করেন| তার চলাচলকে পুঁজি করে তার বোনজামাই মোহাম্মদ আলী, বোন হিন্দুরী খাতুন ও বোনের ছেলে মো. জক্কু মিয়া মিলে ˆপত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ১২ শতাংশ জমি দখলের পায়তারা করে| সেজন্য তারা সফর আলীকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন লোক হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা চালায়| গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে সেই জমি দখল করতে গেলে সফর আলী তাতে বাঁধা দেন| সেদিন থেকে সফর আলীকে ধরে গোয়াল ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে| দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে তিনি শিকলবন্দি অবস্থায় চিড়িয়া খানায় রাখা পশুর চেয়েও কষ্টের জীবনযাপন করছেন|
খবর পেয়ে তার ছেলে মো. মন্টু মিয়া গত ৪ এপ্রিল বাবাকে উদ্ধার করতে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছেলেদেরকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করতে এবং ভাগ্নে জক্কু মিয়াকে জমি দখল না করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান|
স্থানীয়রা জানান, নির্দিষ্ট একটি তরিকা মেনে চালায় সফর আলীকে আগে থেকেই লোকজন পাগলা বলে ডাকেন| তার স্ত্রী এবং ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র থাকায় তিনি একাই পৈত্রিক ভিটায় টিনের ছাপড়া ঘর উঠিয়ে থাকেন| তার বোন এবং ভাগ্নে মিলে জমি লিখে নিতে চায়| এ নিয়ে এলাকার গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার শালিস করে মীমাংসার চেষ্টাও করেছেন| কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা হয় নি| বোন ও বোনের ছেলে জমি লিখে নেওয়ার জন্য মানসিক ভারসাম্যহীন সফর উদ্দিনকে শিকলে বেধে রেখেছে| সেখানে তাকে ঠিকমতো কোন খাবার পানিও দেওয়া হয়নি|
তার ছেলে হুরমুজ আলী বলেন, আমরা বড় অসহায়| দীর্ঘদিন ধরে আমার ফুফু ও ফুফাতো ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার কাছ থেকে এই জমি লিখে নিতে পায়তারা করছে| এ জমি লিখে না দেওয়ায় তারা আমার বাবাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেন| বাবাকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছে| আমরা বলেছি তাকে ছেড়ে দিলে আমরা নিয়ে যাবো| কিন্তু ফুফু আর তার ছেলে মিলে আমাদের কোন কথাই শুনছে না| এলাকাবাসী চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন| পুলিশকে জানালেও কোন লাভ হয়নি|
সফর আলীর চাচাতো ভাই রোস্তম আলী বলেন, চিশতিয়া তরিকা মেনে চলায় মানুষ তাকে পাগলা বলে কিন্তু সে আসলেই কোন পাগল নয়| বোন আর ভাগ্নেরা মিলে জমিটুকু নেওয়ার জন্যই তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখেছে|
মো. রব্বানী মিয়া নামের একজন ভ্যানচালক বলেন, ‘সফর আলী আমার গুরু| আমরা চিশতিয়া তরিকা মেনে চলি| সেজন্য মানুষ আমাদেরকে পাগলা বলে| কিন্তু সফর আলী কোন পাগল বা তার কোন মানসিক সমস্যা নাই| চক্রান্ত করে তাকে পাগল সাজিয়ে বেধে রেখে জায়গা-জমি নেবার চেষ্টা করছে| তিনি তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন|
সাবেক ইউপি সদস্য মো. তারা মিয়া বলেন, সফর আলীর ˆপত্রিক সম্পত্তির এক অংশে সে আরেক অংশে তার ভাগ্নে ঘর উঠিয়ে থাকেন| সম্প্রতি সফর আলীর ঘর তার ভাগ্নে জক্কু মিয়া ভেঙ্গে দিয়ে তাকে মারধর করে বেধে রেখেছে| আমরা তাকে ছেলে দিতে বললেও তারা কথা কানে নিচ্ছে না| পুলিশ আসলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি| বিষয়টি খুবই অমানবিক| এর বিচার হওয়া দরকার|
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু ওসি বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে এ ঘটনার কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন।
মুক্তাগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি |















