ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

শান্তিদূত কবি নজরুলের স্মরণসভায় সাংবাদিক সম্মাননা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নজরুল স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে রোববার ফরিদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদ, ফরিদপুর পৌর নাগরিক সমিতি, ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাব ও দৈনিক ফরিদপুর পত্রিকার যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কবিশ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা ও এজেলার সাংবাদিকতায় সততা-দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এবং একই পথে চলে যে সাংবাদিক সত্যের সাধক হয়েছেন আজ তাদেরকে দেয়া “সম্বাননাপত্র” ও অনুজদের “সত্যানুসন্ধানে অনুপ্রেরণা”পত্র প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাঈদ আলী হোসেন বলেন, সকল দেশপ্রেমিক সন্তানের মধ্যে সেই চেতনা সৃষ্টি হোক, যে চেতনাশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে কবি নজরুল তার সমসাময়িকালের কবিদের রাজনীতির উর্ধে উঠে গণমানুষের সার্বিক কল্যাণার্থে অমূল্য সৃষ্টি-সৌকর্যমন্ডিত লেখা সেকালের পরাধীন ভারতের বহু জাতিগোষ্ঠি ও বিশ্ববাসিকে উপহার দিয়েছেন। নজরুলের ৭৭ বছরের জীবনে লিখতে পেরেছিলেন মাত্র ১৭/১৮ বছর। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় যে বিপুল অথচ বৈচিত্রপূর্ণ সৃষ্টিসম্ভার রেখে গেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যসব কবির পক্ষে সম্ভব হয়নি। এত অল্প সময়ে অপূর্ব অথচ ব্যতিক্রর্মী এক নতুন আঙ্গিকে প্রতিটি রচনায় নিপুন সৃষ্টিশৈলির ছাপ রেখেছেন, যা বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে এক অভুতপূর্ব সৃষ্টি। সময় বিবেচনায় তার এই বিরল সৃষ্টিতে নিহিত ছিল বিশ্বের সকলের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এক পরমাকাঙ্খিত বাণী, আর সেই লেখা ছিল চরম বাস্তবধর্মী, যা অন্যের কাছে (নজরুলের সমসাময়িকদের) ছিল যথাথই অনতিক্রমন্য সৃষ্টিভান্ডার। যে সৃষ্টিতে ছিল যথার্থ সময় উপযোগী বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনাপূর্ণ অসাধারণ বক্তব্য। জীবনে প্রায় সময়ই নিদারুন দৈন্যতার সাথে দিনাতিপাত করেও কবি নজরুল একেকটি লেখার স্বতন্ত্র রূপ দিয়ে বাংলা সাহিত্যে চমক দেখিয়েছেন। পৃথিবীতে নজরুলের মত দারিদ্রের কষাঘাতে নিপতিত থেকেও দেশ ও জাতির জন্য এমন অভূতপূর্ব সাহিত্যসম্ভার রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন যার অবদানে বাঙালী জাতির আত্মসম্মান সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, যেজন্য বিশ্বে এমন কবির সংখ্যা তেমন একটি নেই। কেবল কবি নজরুলই দেশের পরাধিনতার শৃংখলমুক্তির জন্য বিস্ময়কর সৃষ্টির মাধ্যমে গগণবিদারী আওয়াজ তুলেছেন বেনিয়া শোষক ইংরেজদের বিরুদ্ধে। সেকালের অবিভক্ত পরাধিন ভারতবর্ষের (বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান) পূর্ণ স্বাধীনতা কবি নজরুলই তার সম্পাদিত সংবাদপত্রে সর্বপ্রথম চেয়েছেন, যে কবি আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কবিশ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম। তার যথার্থ স্বীকৃতি বাঙালীর পক্ষ থেকে ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে জাতীয় কবি হিসেবে সংবর্ধিত করেছেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্ররায়, সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দিন, এম ওয়াজেদ আলী ও দীনেশ চন্দ্র দাসসহ অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নাগরিক সংবর্ধনার উদ্যোক্তা ছিলেন।
কবি নজরুলের জীবনসাধনা ছিল বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র লক্ষ্য, যা তার গদ্যে-পদ্যে তথা সাহিত্যে-কবিতায়-সাংবাদিকতায় ও সমাজ পরিবর্তনের নানাবিধ বিষয়েও লিখেছেন। তাই তৎকালীন ভারতের সকল জাতি যদি নজরুলের অবদানকে ভুলে যায় তাহলে ঐ সব জাতির পিতৃপরিচয়ও থাকে না। কেননা, কবিদের মধ্যে পরাধীনতার নাগপাশমুক্ত প্রত্যাশি একমাত্র কবি নজরুলই ছিলেন শোষক ব্রিটিশ বেনিয়া তাড়ানোর আত্মপ্রত্যয়ে বলিষ্ঠ হাতের ক্ষুরধার কলমসৈনিক যিনি ভয়ভীতির উর্ধে উঠে জাতির আত্নগ্লানি মুছে ফেলার দুর্দমনীয় কারিগর ও চরমতম স্বাধীনতাকামী, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ সম্পন্ন এক দেশপ্রেমিক কবি-সাংবাদিক-লেখক-সাহিত্যিক, সংগীত সম্রাট, গায়ক ও আবৃতিকার। এজন্যই কবি নজরুল আমৃত্যু শান্তি-সাম্য ও সত্যের অগ্রদূত। আমরা কবি নজরুলের অমর বাণীবিধৃত প্রত্যাশার শান্তি-সাম্য-সত্যের জয় হোক, সকল জাতির আত্মমর্যাদার স্বাধীন দেশ হোক, অস্ত্রসজ্জা ও আগ্রাসন বন্ধ হোক, প্রতিটি দেশের ও জাতির মানুষ স্বাধীনতার অর্জন করে সসম্মানে বেচে থাকুক।
আজ বলা উচিৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ফরিদপুরে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হওয়া আজকের দৈনিক ফরিদপুর বার্তা-র সম্পাদক এম.এম জিলানীর রুনু সৎ সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তাকেসহ এ বছরে আর ৫ জনকে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, এম.এম জিলানী রুনু ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাসদস্য। এছাড়াও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য শেখ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সৎ সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত আলী আশরাফ মোহাম্মদ শোয়ায়েব ও ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সদস্য কে এম সাঈদ হাসানকে মরনোত্তর সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।
এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও সম্মাননা সনদপ্রাপ্ত সৎ সাংবাদিক, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশরাফউজ্জামান দুলাল বলেন ফরিদপুরের সংবাদপত্রের জগতে নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের স্ব-স্ব গুনের স্বীকৃতি (সম্মাননাপত্র) যেসব সংগঠন দিয়েছে, সেসব সংগঠন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধুমাত্র ঐ সাংবাদিকদেরই মহৎ করেনি, এতে সম্মাননা প্রদানকারী নিজ নিজ সংগঠনের মর্যাদাকেও সুপ্রতিষ্ঠিত করলো। নজরুল স্মরণসভার আয়োজন করা জাতীয় দায়িত্বের অন্তর্গত বিষয়। কবি নজরুলের মতো অকুতোভয় সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব আজও মেলা ভার।
সাংবাদিক সম্মননা ও নজরুল স্মরণসভার বিশেষ অতিথি ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট এ.কে.এম আকিদুল ইসলাম বলেন, সত্যের পূজারী, মানবতার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, তিনি হিন্দু-মুসলমানের মিলনের কবি সর্বপরি তৎকালীন ভারতের পরাধিনতার শৃঙখলমুক্তির কবি। যিনি আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি। যে কবির সৃষ্টিতে ধনিত হয়েছে অন্যায়-অবিচার-বিভেদের দেয়াল ভাঙ্গার বাক্য-যার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ কবি নজরুলের নামের প্রথম শব্দেই বিচারক (কাজী) হিসেবে সেকালের ভারতের সকল কুসংকারের বিচার-বিশ্লেষণ তার লেখার মাধ্যমে অত্যন্ত সার্থকভাবে সম্পন্ন করেছে। ন্যায়পরায়ণ ও সৎ সাংবাদিক নজরুলের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মারণসভায় ফরিদপুরে সৎ সাংবাদিকদের সম্মাননা দেয়া একটি মহৎ উদ্যোগ। আমরা সম্মাননা দেয়ার এই ধারা অব্যহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
নজরুল স্মরণসভা ও সাংবাদিক সম্মাননা প্রদানকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানে আগত সম্মানিত সাংবাদিক-সুধিজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক শাহাবুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার সংবাদের প্রতিনিধি একে রফিকউদ্দিন আহমেদ, ফরিদপুর সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদ, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আলমগীর কবির (সম্মাননাপত্র প্রাপ্ত), অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন-এস টিভি ও আমার সংবাদের সদরপুর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন, ভোরের দর্পণের প্রতিনিধি মোঃ শেখ জাফর, দি নিউজ মেইলের প্রতিনিধি কবি এনায়েত হোসেন, জনবাণীর প্রতিনিধি আলী আকবর আকুল, বাংলার দূতের প্রতিনিধি কাজী সাদাত মাহমুদ, দি এশিয়ান এজের প্রতিনিধি আসমা আক্তার, মধুখালী প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, চরভদ্রাসন প্রতিনিধি মোঃ নাজমুল হাসান, দৈনিক ফরিদপুর ও দৈনিক সংবাদ দিগন্তের প্রতিনিধি এ.এস.এম জুনায়েদ, আজকের দর্পণের প্রতিনিধি মোঃ শাহিন শেখ ও বাংলাদেশ সমাচারের বাণিজ্যিক নির্বাহী নোমান বিন আকবর।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শান্তিদূত কবি নজরুলের স্মরণসভায় সাংবাদিক সম্মাননা

আপডেট সময় :

নজরুল স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে রোববার ফরিদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদ, ফরিদপুর পৌর নাগরিক সমিতি, ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাব ও দৈনিক ফরিদপুর পত্রিকার যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কবিশ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা ও এজেলার সাংবাদিকতায় সততা-দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এবং একই পথে চলে যে সাংবাদিক সত্যের সাধক হয়েছেন আজ তাদেরকে দেয়া “সম্বাননাপত্র” ও অনুজদের “সত্যানুসন্ধানে অনুপ্রেরণা”পত্র প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাঈদ আলী হোসেন বলেন, সকল দেশপ্রেমিক সন্তানের মধ্যে সেই চেতনা সৃষ্টি হোক, যে চেতনাশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে কবি নজরুল তার সমসাময়িকালের কবিদের রাজনীতির উর্ধে উঠে গণমানুষের সার্বিক কল্যাণার্থে অমূল্য সৃষ্টি-সৌকর্যমন্ডিত লেখা সেকালের পরাধীন ভারতের বহু জাতিগোষ্ঠি ও বিশ্ববাসিকে উপহার দিয়েছেন। নজরুলের ৭৭ বছরের জীবনে লিখতে পেরেছিলেন মাত্র ১৭/১৮ বছর। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় যে বিপুল অথচ বৈচিত্রপূর্ণ সৃষ্টিসম্ভার রেখে গেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যসব কবির পক্ষে সম্ভব হয়নি। এত অল্প সময়ে অপূর্ব অথচ ব্যতিক্রর্মী এক নতুন আঙ্গিকে প্রতিটি রচনায় নিপুন সৃষ্টিশৈলির ছাপ রেখেছেন, যা বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে এক অভুতপূর্ব সৃষ্টি। সময় বিবেচনায় তার এই বিরল সৃষ্টিতে নিহিত ছিল বিশ্বের সকলের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এক পরমাকাঙ্খিত বাণী, আর সেই লেখা ছিল চরম বাস্তবধর্মী, যা অন্যের কাছে (নজরুলের সমসাময়িকদের) ছিল যথাথই অনতিক্রমন্য সৃষ্টিভান্ডার। যে সৃষ্টিতে ছিল যথার্থ সময় উপযোগী বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনাপূর্ণ অসাধারণ বক্তব্য। জীবনে প্রায় সময়ই নিদারুন দৈন্যতার সাথে দিনাতিপাত করেও কবি নজরুল একেকটি লেখার স্বতন্ত্র রূপ দিয়ে বাংলা সাহিত্যে চমক দেখিয়েছেন। পৃথিবীতে নজরুলের মত দারিদ্রের কষাঘাতে নিপতিত থেকেও দেশ ও জাতির জন্য এমন অভূতপূর্ব সাহিত্যসম্ভার রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন যার অবদানে বাঙালী জাতির আত্মসম্মান সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, যেজন্য বিশ্বে এমন কবির সংখ্যা তেমন একটি নেই। কেবল কবি নজরুলই দেশের পরাধিনতার শৃংখলমুক্তির জন্য বিস্ময়কর সৃষ্টির মাধ্যমে গগণবিদারী আওয়াজ তুলেছেন বেনিয়া শোষক ইংরেজদের বিরুদ্ধে। সেকালের অবিভক্ত পরাধিন ভারতবর্ষের (বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান) পূর্ণ স্বাধীনতা কবি নজরুলই তার সম্পাদিত সংবাদপত্রে সর্বপ্রথম চেয়েছেন, যে কবি আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কবিশ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম। তার যথার্থ স্বীকৃতি বাঙালীর পক্ষ থেকে ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে জাতীয় কবি হিসেবে সংবর্ধিত করেছেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্ররায়, সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দিন, এম ওয়াজেদ আলী ও দীনেশ চন্দ্র দাসসহ অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নাগরিক সংবর্ধনার উদ্যোক্তা ছিলেন।
কবি নজরুলের জীবনসাধনা ছিল বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র লক্ষ্য, যা তার গদ্যে-পদ্যে তথা সাহিত্যে-কবিতায়-সাংবাদিকতায় ও সমাজ পরিবর্তনের নানাবিধ বিষয়েও লিখেছেন। তাই তৎকালীন ভারতের সকল জাতি যদি নজরুলের অবদানকে ভুলে যায় তাহলে ঐ সব জাতির পিতৃপরিচয়ও থাকে না। কেননা, কবিদের মধ্যে পরাধীনতার নাগপাশমুক্ত প্রত্যাশি একমাত্র কবি নজরুলই ছিলেন শোষক ব্রিটিশ বেনিয়া তাড়ানোর আত্মপ্রত্যয়ে বলিষ্ঠ হাতের ক্ষুরধার কলমসৈনিক যিনি ভয়ভীতির উর্ধে উঠে জাতির আত্নগ্লানি মুছে ফেলার দুর্দমনীয় কারিগর ও চরমতম স্বাধীনতাকামী, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ সম্পন্ন এক দেশপ্রেমিক কবি-সাংবাদিক-লেখক-সাহিত্যিক, সংগীত সম্রাট, গায়ক ও আবৃতিকার। এজন্যই কবি নজরুল আমৃত্যু শান্তি-সাম্য ও সত্যের অগ্রদূত। আমরা কবি নজরুলের অমর বাণীবিধৃত প্রত্যাশার শান্তি-সাম্য-সত্যের জয় হোক, সকল জাতির আত্মমর্যাদার স্বাধীন দেশ হোক, অস্ত্রসজ্জা ও আগ্রাসন বন্ধ হোক, প্রতিটি দেশের ও জাতির মানুষ স্বাধীনতার অর্জন করে সসম্মানে বেচে থাকুক।
আজ বলা উচিৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ফরিদপুরে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হওয়া আজকের দৈনিক ফরিদপুর বার্তা-র সম্পাদক এম.এম জিলানীর রুনু সৎ সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তাকেসহ এ বছরে আর ৫ জনকে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, এম.এম জিলানী রুনু ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাসদস্য। এছাড়াও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য শেখ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সৎ সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত আলী আশরাফ মোহাম্মদ শোয়ায়েব ও ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সদস্য কে এম সাঈদ হাসানকে মরনোত্তর সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।
এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও সম্মাননা সনদপ্রাপ্ত সৎ সাংবাদিক, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশরাফউজ্জামান দুলাল বলেন ফরিদপুরের সংবাদপত্রের জগতে নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের স্ব-স্ব গুনের স্বীকৃতি (সম্মাননাপত্র) যেসব সংগঠন দিয়েছে, সেসব সংগঠন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধুমাত্র ঐ সাংবাদিকদেরই মহৎ করেনি, এতে সম্মাননা প্রদানকারী নিজ নিজ সংগঠনের মর্যাদাকেও সুপ্রতিষ্ঠিত করলো। নজরুল স্মরণসভার আয়োজন করা জাতীয় দায়িত্বের অন্তর্গত বিষয়। কবি নজরুলের মতো অকুতোভয় সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব আজও মেলা ভার।
সাংবাদিক সম্মননা ও নজরুল স্মরণসভার বিশেষ অতিথি ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট এ.কে.এম আকিদুল ইসলাম বলেন, সত্যের পূজারী, মানবতার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, তিনি হিন্দু-মুসলমানের মিলনের কবি সর্বপরি তৎকালীন ভারতের পরাধিনতার শৃঙখলমুক্তির কবি। যিনি আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি। যে কবির সৃষ্টিতে ধনিত হয়েছে অন্যায়-অবিচার-বিভেদের দেয়াল ভাঙ্গার বাক্য-যার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ কবি নজরুলের নামের প্রথম শব্দেই বিচারক (কাজী) হিসেবে সেকালের ভারতের সকল কুসংকারের বিচার-বিশ্লেষণ তার লেখার মাধ্যমে অত্যন্ত সার্থকভাবে সম্পন্ন করেছে। ন্যায়পরায়ণ ও সৎ সাংবাদিক নজরুলের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মারণসভায় ফরিদপুরে সৎ সাংবাদিকদের সম্মাননা দেয়া একটি মহৎ উদ্যোগ। আমরা সম্মাননা দেয়ার এই ধারা অব্যহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
নজরুল স্মরণসভা ও সাংবাদিক সম্মাননা প্রদানকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানে আগত সম্মানিত সাংবাদিক-সুধিজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক শাহাবুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার সংবাদের প্রতিনিধি একে রফিকউদ্দিন আহমেদ, ফরিদপুর সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদ, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আলমগীর কবির (সম্মাননাপত্র প্রাপ্ত), অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন-এস টিভি ও আমার সংবাদের সদরপুর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন, ভোরের দর্পণের প্রতিনিধি মোঃ শেখ জাফর, দি নিউজ মেইলের প্রতিনিধি কবি এনায়েত হোসেন, জনবাণীর প্রতিনিধি আলী আকবর আকুল, বাংলার দূতের প্রতিনিধি কাজী সাদাত মাহমুদ, দি এশিয়ান এজের প্রতিনিধি আসমা আক্তার, মধুখালী প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, চরভদ্রাসন প্রতিনিধি মোঃ নাজমুল হাসান, দৈনিক ফরিদপুর ও দৈনিক সংবাদ দিগন্তের প্রতিনিধি এ.এস.এম জুনায়েদ, আজকের দর্পণের প্রতিনিধি মোঃ শাহিন শেখ ও বাংলাদেশ সমাচারের বাণিজ্যিক নির্বাহী নোমান বিন আকবর।