ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে খেলাফত মজলিস ও ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৫১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামায়াতে ইসলামীতে সদ্য যোগদানকারী বিএনপি নেতা পরপর দুইবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মেজর ( অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও মেজর আখতারুজ্জামানের ছোট ভাই বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করে আলোচনায় উঠে এসেছে এ পরিবারটি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বাবা মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়লের জন্য তার সমর্থকদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অপরদিকে তার বড় ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ও ছোট ভাই মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট অংশগ্রহণ করায় নির্বাচনী আসনটির সর্বমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাবা ,ছেলে ও ভাই একই নির্বাচনী আসনে ত্রিমুখি অবস্থানে থেকে একই পরিবারের ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের তিন সদস্য তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন—যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির থেকে সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান রঞ্জন সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর তাঁর এই দলবদল কিশোরগঞ্জ-২ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে রঞ্জনের ছোট ভাই সাবেক সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় রাজনৈতিক কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভোটাররা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে পারিবারিক বিভাজনের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় আমি ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই, তবে দীর্ঘ ৪০ বছরেও আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ ও ঢাকা ১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব নির্বাচন করছি। আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান রঞ্জন আমার ১২ বছর পরে বিএনপিতে এসে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। আমি নিজে যুদ্ধ করেছি, প্রকৃত ইতিহাস আমি জানি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহরিয়ার জামান জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আমি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। দল যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেইটা মেনে নিবো। বড় চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবে। চাচা দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জরিত সে নির্বাচন করতেই পারে। একই পরিবারের দুইজন প্রার্থী সেইটাকে সমস্যা হিসাবে দেখছি না। ভোটারা যাকে রাই দিবে সেইটা মেনে নিবো।
বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকৃত আখতারুজ্জামান রঞ্জন জানান, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। সে হিসাবে আমার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে এটি দোষের কিছু নাই। জামায়াতে সাথে সেহেতু বাংলাদেশ খেলাফতে মসজিদ জোট হচ্ছে ছেলে হয়তো নির্বাচন প্রত্যাহার করবে। ভাইয়ের বিষয় বলতে পারি না গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে খেলাফত মজলিস ও ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী

আপডেট সময় :

জামায়াতে ইসলামীতে সদ্য যোগদানকারী বিএনপি নেতা পরপর দুইবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মেজর ( অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও মেজর আখতারুজ্জামানের ছোট ভাই বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করে আলোচনায় উঠে এসেছে এ পরিবারটি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বাবা মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়লের জন্য তার সমর্থকদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অপরদিকে তার বড় ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ও ছোট ভাই মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট অংশগ্রহণ করায় নির্বাচনী আসনটির সর্বমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাবা ,ছেলে ও ভাই একই নির্বাচনী আসনে ত্রিমুখি অবস্থানে থেকে একই পরিবারের ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের তিন সদস্য তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন—যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির থেকে সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান রঞ্জন সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর তাঁর এই দলবদল কিশোরগঞ্জ-২ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে রঞ্জনের ছোট ভাই সাবেক সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় রাজনৈতিক কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভোটাররা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে পারিবারিক বিভাজনের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় আমি ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই, তবে দীর্ঘ ৪০ বছরেও আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ ও ঢাকা ১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব নির্বাচন করছি। আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান রঞ্জন আমার ১২ বছর পরে বিএনপিতে এসে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। আমি নিজে যুদ্ধ করেছি, প্রকৃত ইতিহাস আমি জানি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহরিয়ার জামান জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আমি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। দল যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেইটা মেনে নিবো। বড় চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবে। চাচা দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জরিত সে নির্বাচন করতেই পারে। একই পরিবারের দুইজন প্রার্থী সেইটাকে সমস্যা হিসাবে দেখছি না। ভোটারা যাকে রাই দিবে সেইটা মেনে নিবো।
বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকৃত আখতারুজ্জামান রঞ্জন জানান, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। সে হিসাবে আমার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে এটি দোষের কিছু নাই। জামায়াতে সাথে সেহেতু বাংলাদেশ খেলাফতে মসজিদ জোট হচ্ছে ছেলে হয়তো নির্বাচন প্রত্যাহার করবে। ভাইয়ের বিষয় বলতে পারি না গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে পারে।