ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

দাগনভূঞায় ছাত্রদলের আহবায়কের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে

oplus_0

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফেনীর দাগনভূঞায় ইকবাল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে ফটিক গ্রুপের লোকজন মাসুমের পুরাতন গ্রুপে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বড় ভাইয়ের সঙ্গে দলীয় ফটিক গ্রুপের মাটিকাটা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওইদিন রাত ৩টার দিকে প্রতিপক্ষের একদল লোক ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুমের বাড়িতে হামলা চালায়। তবে অন্ধকারের কারণে তারা মাসুমের মুল ঘর চিনতে না পেরে তাদের পুরাতন ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় । আগুনে ঘরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মাসুমের পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকলে এই ভাবে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন দিশেহারা। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এভাবে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই বিষয়ে দাগনভূঞা ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্র দলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, আমি কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি হয়ে আমিই নিরাপদ নেই। মাটি বহনকে কেন্দ্র করে আমার বড় ভাইর সাথে ফটিক গ্রুপের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর ফটিক ও তার ভাই পলাশ ১০ থেকে ১২ টা হুন্ডা নিয়ে আমার বাড়ির চারপাশে শোডাউন দিয়ে যায়। সাথে পুলিশের সদস্যরা ছিল। এর পরই রাত প্রায় তিনটার দিকে আমাদের বাড়িতে আমাদের পুরাতন ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে আমাদের ঘরের কোন কিছুই রক্ষা করা যায়নি।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে ছাত্র দলের বহিস্কৃত নেতা কাজি জামশেদুল আলম ফটিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন এই আগুন দেয়া এটা পারিবারিক দ্বন্ধের থেকে হয়েছে। যতটুকা জানি মাসুমের চাচাদের সাথে তাদের দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলছে। এই ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে আমার উপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে।
দাগনভূঞা পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ন কবির বাবু বলেন, দাগনভূঞা পৌরসভার ৪ নং ওর্য়াডে মাটির ব‍্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।গতকাল রাতে সেটা সংঘর্ষে রুপ নেয়।সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর রাত ২ঘটিকার সময় ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুমের বাডীতে দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরে আগুন দেয়।রাজনীতিতে মত পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সেটা কখনও প্রতিহিংসায় রুপ দেওয়া উচিৎ নয়।আওয়ামীলীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলো।আমাদের সাথে তাদের রাজনৈতিকভাবে বিরোধ ছিলো। তারা আমাদের নেতা কর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে কিন্তু কখনো বাডীতে অগ্নিসংযোগ করে নাই।বর্তমানে অগ্নিসংযোগর যে কালচার তৈরী হচ্ছে সেটা কারো জন্য কাম‍্য নয়।আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।ছাএ নেতারা সব সময় অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়। এই জন্য তাদের উপর হামলা হবে এটা মেনে নেয়া যায়না।গত কিছু দিন কলেজ ছাএদলের যুগ্ম সম্পাদক অনিক হাসান নিলয় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়।নির্বাচনের সময় আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দাগনভূঞা কে সন্ত্রাস ও চাদাঁবাজ মুক্ত করবেন।বর্তমানে উনি মন্ত্রী দৃশ্যমান কিছু এখনও চোখে পডেনি।আমরা আশা করি মন্ত্রী সাহেব অনতিবিলম্বে অবৈব মাটি কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের কাছে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাগনভূঞায় ছাত্রদলের আহবায়কের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় :

ফেনীর দাগনভূঞায় ইকবাল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে ফটিক গ্রুপের লোকজন মাসুমের পুরাতন গ্রুপে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বড় ভাইয়ের সঙ্গে দলীয় ফটিক গ্রুপের মাটিকাটা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওইদিন রাত ৩টার দিকে প্রতিপক্ষের একদল লোক ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুমের বাড়িতে হামলা চালায়। তবে অন্ধকারের কারণে তারা মাসুমের মুল ঘর চিনতে না পেরে তাদের পুরাতন ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় । আগুনে ঘরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মাসুমের পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকলে এই ভাবে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন দিশেহারা। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এভাবে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই বিষয়ে দাগনভূঞা ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্র দলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, আমি কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি হয়ে আমিই নিরাপদ নেই। মাটি বহনকে কেন্দ্র করে আমার বড় ভাইর সাথে ফটিক গ্রুপের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর ফটিক ও তার ভাই পলাশ ১০ থেকে ১২ টা হুন্ডা নিয়ে আমার বাড়ির চারপাশে শোডাউন দিয়ে যায়। সাথে পুলিশের সদস্যরা ছিল। এর পরই রাত প্রায় তিনটার দিকে আমাদের বাড়িতে আমাদের পুরাতন ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে আমাদের ঘরের কোন কিছুই রক্ষা করা যায়নি।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে ছাত্র দলের বহিস্কৃত নেতা কাজি জামশেদুল আলম ফটিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন এই আগুন দেয়া এটা পারিবারিক দ্বন্ধের থেকে হয়েছে। যতটুকা জানি মাসুমের চাচাদের সাথে তাদের দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলছে। এই ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে আমার উপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে।
দাগনভূঞা পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ন কবির বাবু বলেন, দাগনভূঞা পৌরসভার ৪ নং ওর্য়াডে মাটির ব‍্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।গতকাল রাতে সেটা সংঘর্ষে রুপ নেয়।সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর রাত ২ঘটিকার সময় ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুমের বাডীতে দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরে আগুন দেয়।রাজনীতিতে মত পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সেটা কখনও প্রতিহিংসায় রুপ দেওয়া উচিৎ নয়।আওয়ামীলীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলো।আমাদের সাথে তাদের রাজনৈতিকভাবে বিরোধ ছিলো। তারা আমাদের নেতা কর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে কিন্তু কখনো বাডীতে অগ্নিসংযোগ করে নাই।বর্তমানে অগ্নিসংযোগর যে কালচার তৈরী হচ্ছে সেটা কারো জন্য কাম‍্য নয়।আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।ছাএ নেতারা সব সময় অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়। এই জন্য তাদের উপর হামলা হবে এটা মেনে নেয়া যায়না।গত কিছু দিন কলেজ ছাএদলের যুগ্ম সম্পাদক অনিক হাসান নিলয় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়।নির্বাচনের সময় আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দাগনভূঞা কে সন্ত্রাস ও চাদাঁবাজ মুক্ত করবেন।বর্তমানে উনি মন্ত্রী দৃশ্যমান কিছু এখনও চোখে পডেনি।আমরা আশা করি মন্ত্রী সাহেব অনতিবিলম্বে অবৈব মাটি কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের কাছে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।