কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—এ লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ৭ জুন শুরু হওয়া এ অধিবেশন বুধবার শেষ হয়।
অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জুন জাতীয় বাজেট পাস হয়। এ অধিবেশনে মোট ১০টি বিল পাস করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশে ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এবং জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো প্রকার চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের প্রশ্নে আমরা একসঙ্গেই কাজ করব বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের কোনো স্থান হবে না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যেন কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে সেটি কখনো শত্রুতা বা প্রতিহিংসায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ন্যায়পরায়ণতার চর্চা করা।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ কিংবা স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে এবং কোনো তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে। এই ঐক্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ৩১ দফা এখন সারা দেশের মানুষের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। একইভাবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে উন্নয়নের অনেক গল্প শোনানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ছিল না। বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাটের ক্ষেত্র বানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। সম্পদ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বাজেট বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যা এবং যেকোনো উপায়ে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে নানা উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিতভাবে পাবেন। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সেবাকে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের এসব সুবিধা রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়; বরং জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শিক্ষা খাত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। নকল ও অটো প্রমোশনের মতো সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
জনগণের সংসদ
সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ প্রাণবন্ত আলোচনা ও গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জনগণের সংসদে পরিণত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে রাষ্ট্র হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।





















