ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাত জেলায় বন্যায় প্রাণহানি ৫৪

পানিবন্দি দুই লাখ পরিবার, আরও বৃষ্টির শঙ্কা

মহিউদ্দিন তুষার, সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের সাতটি জেলায় বন্যার পানি এখনো নামেনি, বরং প্রতিদিনই দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ছে। এ পর্যন্ত বন্যাজনিত কারণে প্রাণ গেছে ৫৪ জনের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২ লাখ পরিবার, আর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের নিম্নাঞ্চল কার্যত পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। বহু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে আমন ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতির খবর মিলছে, যা আগামী দিনগুলোতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য খাতেও ধাক্কা লেগেছে, অনেক পুকুর ও ঘের ডুবে মাছ ভেসে গেছে,যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক মৎস্যচাষিরা।

পানি বাড়তে থাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় বিদ্যালয়, উঁচু বাঁধ কিংবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠেছে। তবে সেসব কেন্দ্রেও স্বস্তি নেই—জায়গার সংকট, খাবার পানির অভাব, টয়লেট ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের ঘাটতিতে ভুগছেন আশ্রয়প্রার্থীরা। বিশেষ করে শিশু, প্রসূতি মা, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবরও আসছে বিভিন্ন এলাকা থেকে, যেখানে চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে সময় লাগছে।

দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কাজ বন্ধ থাকায় আয়ের পথ রুদ্ধ, ঘরে মজুত খাবারও ফুরিয়ে আসছে অনেকের। একজন কৃষক বলেন, জমির ধান তো গেছেই, এখন ঘরের চালেও পানি উঠছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে স্কুলঘরে উঠেছি, কিন্তু খাওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। একই দুর্ভোগের কথা জানান এক মা, যিনি ছোট শিশুকে নিয়ে বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। রাতে বৃষ্টি হলে বাচ্চাটা ভিজে যায়, শুকনো কাপড় নেই যে বদলে দেব।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে ঢাকাসহ ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন আবহাওয়াবিদ জানান, উজানের পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি, এর মধ্যে নতুন বৃষ্টিপাত যোগ হলে প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন বৃষ্টিপাত যুক্ত হলে কিছু এলাকায় পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি সহসাই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ঢাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা উঁচু এলাকাগুলোতে অনেকটাই কেটে গেছে। তবে শহরের নিচু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখনো পানি জমে আছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা, খাল-নালা দখল ও ভরাট, আর অপরিকল্পিত নগরায়ণকে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেও পানি নামতে সময় লাগছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়েছে নাগরিক জীবনে। অফিসগামী মানুষকে যানজট ও জলাবদ্ধ রাস্তায় ভোগান্তি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে নিচু এলাকার বাজারগুলোতে। রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের আয় কমে গেছে, কারণ জলমগ্ন সড়কে যাত্রী পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসনগুলো স্থানীয়ভাবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, শুকনো খাবার বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোও খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে যাচ্ছে। তবে ক্ষতির ব্যাপকতার তুলনায় ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল বলে অভিযোগ করছেন অনেক দুর্গত মানুষ। বিশেষত প্রত্যন্ত ও দুর্গম চরাঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত ও তীব্র বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ছে, ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীবহুল ভূপ্রকৃতির কারণে দেশ এই ঝুঁকির মুখে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত বলে সতর্ক করেন তিনি।

অতীতের বড় বন্যাগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ক্ষয়ক্ষতির ধরন কিছুটা পাল্টেছে, আগে যেখানে মূলত নদীভাঙন ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রধান সমস্যা ছিল, এখন স্বল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যাও সমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে, যদি না দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনা জোরদার করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি, বিশেষ করে দুর্গম ও চরাঞ্চলে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর গতি বাড়াতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাত জেলায় বন্যায় প্রাণহানি ৫৪

পানিবন্দি দুই লাখ পরিবার, আরও বৃষ্টির শঙ্কা

আপডেট সময় :

দেশের সাতটি জেলায় বন্যার পানি এখনো নামেনি, বরং প্রতিদিনই দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ছে। এ পর্যন্ত বন্যাজনিত কারণে প্রাণ গেছে ৫৪ জনের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২ লাখ পরিবার, আর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের নিম্নাঞ্চল কার্যত পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। বহু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে আমন ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতির খবর মিলছে, যা আগামী দিনগুলোতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য খাতেও ধাক্কা লেগেছে, অনেক পুকুর ও ঘের ডুবে মাছ ভেসে গেছে,যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক মৎস্যচাষিরা।

পানি বাড়তে থাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় বিদ্যালয়, উঁচু বাঁধ কিংবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠেছে। তবে সেসব কেন্দ্রেও স্বস্তি নেই—জায়গার সংকট, খাবার পানির অভাব, টয়লেট ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের ঘাটতিতে ভুগছেন আশ্রয়প্রার্থীরা। বিশেষ করে শিশু, প্রসূতি মা, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবরও আসছে বিভিন্ন এলাকা থেকে, যেখানে চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে সময় লাগছে।

দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কাজ বন্ধ থাকায় আয়ের পথ রুদ্ধ, ঘরে মজুত খাবারও ফুরিয়ে আসছে অনেকের। একজন কৃষক বলেন, জমির ধান তো গেছেই, এখন ঘরের চালেও পানি উঠছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে স্কুলঘরে উঠেছি, কিন্তু খাওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। একই দুর্ভোগের কথা জানান এক মা, যিনি ছোট শিশুকে নিয়ে বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। রাতে বৃষ্টি হলে বাচ্চাটা ভিজে যায়, শুকনো কাপড় নেই যে বদলে দেব।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে ঢাকাসহ ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন আবহাওয়াবিদ জানান, উজানের পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি, এর মধ্যে নতুন বৃষ্টিপাত যোগ হলে প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন বৃষ্টিপাত যুক্ত হলে কিছু এলাকায় পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি সহসাই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ঢাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা উঁচু এলাকাগুলোতে অনেকটাই কেটে গেছে। তবে শহরের নিচু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখনো পানি জমে আছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা, খাল-নালা দখল ও ভরাট, আর অপরিকল্পিত নগরায়ণকে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেও পানি নামতে সময় লাগছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়েছে নাগরিক জীবনে। অফিসগামী মানুষকে যানজট ও জলাবদ্ধ রাস্তায় ভোগান্তি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে নিচু এলাকার বাজারগুলোতে। রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের আয় কমে গেছে, কারণ জলমগ্ন সড়কে যাত্রী পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসনগুলো স্থানীয়ভাবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, শুকনো খাবার বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোও খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে যাচ্ছে। তবে ক্ষতির ব্যাপকতার তুলনায় ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল বলে অভিযোগ করছেন অনেক দুর্গত মানুষ। বিশেষত প্রত্যন্ত ও দুর্গম চরাঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত ও তীব্র বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ছে, ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীবহুল ভূপ্রকৃতির কারণে দেশ এই ঝুঁকির মুখে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত বলে সতর্ক করেন তিনি।

অতীতের বড় বন্যাগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ক্ষয়ক্ষতির ধরন কিছুটা পাল্টেছে, আগে যেখানে মূলত নদীভাঙন ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রধান সমস্যা ছিল, এখন স্বল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যাও সমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে, যদি না দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনা জোরদার করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি, বিশেষ করে দুর্গম ও চরাঞ্চলে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর গতি বাড়াতে হবে।