ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দিনাজপুরে ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন, কেন্দ্রসচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি Logo মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত কমিটিকে মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটির ফুলেল শুভেচ্ছা Logo ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় শিশু মৃত্যু বেড়েছে, অভিযোগ সিপিবির Logo ডামুড্যায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত Logo বিসিআরএসআর প্রকল্প ঘুরে দেখলেন প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুল আবেদীন Logo ‘অবৈধ দখল মুক্ত করা হবে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী’ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে গরু জব্দ Logo ঈশ্বরদীতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo গৌরীপুরে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ শুরু Logo টেকনাফে অস্ত্র-গুলি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হেলমেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড

গোদাগাড়ীতে সংবাদ প্রকাশের পরও থামছেনা নাবিল গ্রুপের বর্জ্য ফেলা

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে নাবা-ফার্ম (নাবিল গ্রুপ) মুরগীর বিষ্ঠা ফেলে জনভোগান্তি করছে উল্লেখ করে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও বন্ধ হয়নি বর্জ্য (মুরগীর বিষ্ঠা/লিটার) ফেলা। গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট এলাকায় অবস্থিত নাবা ফার্ম থেকে প্রতিনিয়ত মুরগীর বিষ্ঠা এনে গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর বিলের ফসলি জমিতে ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যার কারনে বাড়ছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবশেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর এই প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (নাবিল গ্রুপ) মুরগির খামার থেকে প্রতিদিন গভীর রাতে মুরগির লিটার এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব ও বর্জ্য ফেলার সত্যতা পান এবং সংবাদ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব বর্জ্যের কারণে ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের পানিও দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে, পরিবেশের ছাড়পত্র থাকলেও কীভাবে ফসলি জমি ও বিল এলাকায় প্রকাশ্যে মুরগির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে? আর যদি পরিবেশ দূষণ না-ই হয়ে থাকে, তাহলে এলাকাবাসী কেন দিনের পর দিন দুর্গন্ধ ও মাছির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ? তবে নাবা ফার্মকে দেওয়া পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে সচিব বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, রাতের আঁধারে নিয়মিতভাবে মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে খাল-বিল ও জমির পানি দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এমনকি গবাদিপশুকেও সেই পানি খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লিখিত আবেদনে ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম জড়িত থাকায় প্রশাসনের কিছু অংশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী অফিসে গিয়ে উপ-পরিচালককে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য পরিস্থিতি আরও হুমকির মুখে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোদাগাড়ীতে সংবাদ প্রকাশের পরও থামছেনা নাবিল গ্রুপের বর্জ্য ফেলা

আপডেট সময় :

রাজশাহীতে নাবা-ফার্ম (নাবিল গ্রুপ) মুরগীর বিষ্ঠা ফেলে জনভোগান্তি করছে উল্লেখ করে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও বন্ধ হয়নি বর্জ্য (মুরগীর বিষ্ঠা/লিটার) ফেলা। গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট এলাকায় অবস্থিত নাবা ফার্ম থেকে প্রতিনিয়ত মুরগীর বিষ্ঠা এনে গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর বিলের ফসলি জমিতে ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যার কারনে বাড়ছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবশেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর এই প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (নাবিল গ্রুপ) মুরগির খামার থেকে প্রতিদিন গভীর রাতে মুরগির লিটার এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব ও বর্জ্য ফেলার সত্যতা পান এবং সংবাদ প্রকাশ করেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব বর্জ্যের কারণে ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের পানিও দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে, পরিবেশের ছাড়পত্র থাকলেও কীভাবে ফসলি জমি ও বিল এলাকায় প্রকাশ্যে মুরগির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে? আর যদি পরিবেশ দূষণ না-ই হয়ে থাকে, তাহলে এলাকাবাসী কেন দিনের পর দিন দুর্গন্ধ ও মাছির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ? তবে নাবা ফার্মকে দেওয়া পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে সচিব বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, রাতের আঁধারে নিয়মিতভাবে মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে খাল-বিল ও জমির পানি দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এমনকি গবাদিপশুকেও সেই পানি খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লিখিত আবেদনে ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম জড়িত থাকায় প্রশাসনের কিছু অংশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী অফিসে গিয়ে উপ-পরিচালককে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য পরিস্থিতি আরও হুমকির মুখে পড়বে।