ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ধান কাটলেও বিপদ, না কাটলেও বিপদ

গৌরীপুরে কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে পানির নিচে

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। টানা বৃষ্টির কারনে কৃষকদের এখন ধান কাটলেও বিপদ আর না কাটলেও বিপদ। এক্ষেত্রে ধান না কাটলে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে আর কাটলে মাড়াই করতে না পেরে তা পচে যাচ্ছে। তাছাড়া রয়েছে শ্রমিক সংকট ও ধান মাড়াই যন্ত্রের ডিজেল সংকট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোণাপাড়া, শাহবাজপুর, ইছুলিয়া, শালীহর এবং মাওহা, মইলাকান্দা, অচিন্তপুর, রামগোপালপুর ও সিধলা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ধান ক্ষেত পানির তলিয়ে গেছে। এসকল অঞ্চলে কেউ কোমর পানিতে, কেউ বুক পানিতে নেমে, কেউবা নৌকায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। আর অনেক কৃষককে নির্বাক হয়ে ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য বিল ও খালে বাঁধ দেওয়ায় পানি সরতে পারছে না। এছাড়া ফসলি জমিতে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
কোণাপাড়া গ্রামের কৃষক সাজেদা জানান, ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় ও আগাম বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তার পরিবারের খাদ্য সংকট দেখা দিবে।
সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু জানান, একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণেও পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোনায়েম খাঁ জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুরই প্রধান দায়ী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে গৌরীপুরে এ বিষয়ে গৌরীপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা জানান, বিল বা জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে কেউ বাঁধ দিলে বা পুকুর নির্মাণ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন ধান। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এ উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। কৃষকরা যাতে অবশিষ্ট ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ধান কাটলেও বিপদ, না কাটলেও বিপদ

গৌরীপুরে কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে পানির নিচে

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। টানা বৃষ্টির কারনে কৃষকদের এখন ধান কাটলেও বিপদ আর না কাটলেও বিপদ। এক্ষেত্রে ধান না কাটলে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে আর কাটলে মাড়াই করতে না পেরে তা পচে যাচ্ছে। তাছাড়া রয়েছে শ্রমিক সংকট ও ধান মাড়াই যন্ত্রের ডিজেল সংকট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোণাপাড়া, শাহবাজপুর, ইছুলিয়া, শালীহর এবং মাওহা, মইলাকান্দা, অচিন্তপুর, রামগোপালপুর ও সিধলা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ধান ক্ষেত পানির তলিয়ে গেছে। এসকল অঞ্চলে কেউ কোমর পানিতে, কেউ বুক পানিতে নেমে, কেউবা নৌকায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। আর অনেক কৃষককে নির্বাক হয়ে ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য বিল ও খালে বাঁধ দেওয়ায় পানি সরতে পারছে না। এছাড়া ফসলি জমিতে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
কোণাপাড়া গ্রামের কৃষক সাজেদা জানান, ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় ও আগাম বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তার পরিবারের খাদ্য সংকট দেখা দিবে।
সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু জানান, একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণেও পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোনায়েম খাঁ জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুরই প্রধান দায়ী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে গৌরীপুরে এ বিষয়ে গৌরীপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা জানান, বিল বা জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে কেউ বাঁধ দিলে বা পুকুর নির্মাণ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন ধান। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এ উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। কৃষকরা যাতে অবশিষ্ট ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।