ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

জলঢাকায় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন সম্পূর্ণ

জলঢাকা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনেকটা ঘটা করেই আনন্দ উৎসাহ্ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে সুসম্পর্ণ হলো জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন।
গতকাল সোমবার সকাল ৯টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন টানা ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সুসম্পূর্ণ করেন রির্টানিং অফিসার জেলা রেজিস্ট্রার এস.এম সোহেল রানা মিলন। নির্বাচনে প্রিজাটিং অফিসার হিসাব উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত জলঢাকা সাবরেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিং অফিসার ছিলেন রকিবুল ইসলাম বাদশা। নির্বাচন প্রস্তূতি কমিটি সূত্রে জানা যায়, জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে ৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২০জন। প্রতিদ্বন্দ্বী পদ সভাপতি পদে ৭জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৫জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২জন এবং কার্যকারী সদস্য পদে ৬জন ব্যালট ভোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী করেছেন এ নির্বাচনে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কোনরুপ অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মাধ্যমে নির্বাচন সুসম্পূর্ণ হয়। ভোট গণনা শেষে বে-সরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষনা করেন জেলা রেজিস্ট্রার এম এম সোহেল রানা মিলন।
উক্ত নির্বাচনী ফলাফলে সভাপতি পদে ৭জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও ব্যালট ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ছাইদুল আলম সরকার। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৩ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজাদ হোসেন সরকার পেয়েছেন ১৭ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২২ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মোনাব্বুল হক। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৩ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ ভোট পেয়েছেন ২৭টি ভোট। এছাড়া ৫জন কার্যকারী সদস্য পদে ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাশেম। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৯টি এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৭৫ ভোট। ফলাফল ঘোষনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের গলার বিজয়ী মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় সাবরেজিস্টার অফিসে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ করা গেছে। ফলাফল ঘোষনার পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজয়ী সভাপতি ছাইদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার বলেন, সহকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবং তাদের আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে সহকর্মীরা আমাদের সম্মানিত করেছে আমরা যেন তাদের সেই আশা প্রত্যাশা পুরন করতে পারি মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট সে আশাই করি।
সেই সঙ্গে জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের সার্বিক উন্নয়ন কল্পে এ দলিল লেখক সমিতি কাজ করবে এমন আশা ব্যক্ত করছি। উল্লেখ্য, নানান অনিয়ম দূর্নীতি ও অবব্যস্থাপনার মাধ্যমে চলছিল জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এমনও অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন সাবরেজিস্টার অফিসের সাবরেজিস্টারকে হাত করে দলিল লেখক সমিতির একটি পক্ষ সেবা নিতে আশা সাধারণ গ্রাহকদের উপর উপরন্তু ট্যাক্স বশিয়ে উৎকুশ আদায় করতো। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, ঘেরাও কর্মসূচিসহ আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছিল জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিস।
তখন থেকে প্রায় একটি বছর সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থিবর নেমে এসেছিল দলিল লেখক সমিতির। সম্প্রতি নানাবিধ আলোচনা ও সমালোচনার শীর্ষে থেকে নব উদ্যোমে অধিষ্ঠিত করতে দলিল লেখক সমিতির এ ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। তবে সচেতন মহল থেকে সূধী সমাজের দাবী পূর্বের ন্যায় যেন দূর্নীতিতে জরিয়ে না পরে নবনির্বাচিত এ দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জলঢাকায় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন সম্পূর্ণ

আপডেট সময় :

অনেকটা ঘটা করেই আনন্দ উৎসাহ্ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে সুসম্পর্ণ হলো জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন।
গতকাল সোমবার সকাল ৯টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন টানা ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সুসম্পূর্ণ করেন রির্টানিং অফিসার জেলা রেজিস্ট্রার এস.এম সোহেল রানা মিলন। নির্বাচনে প্রিজাটিং অফিসার হিসাব উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত জলঢাকা সাবরেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিং অফিসার ছিলেন রকিবুল ইসলাম বাদশা। নির্বাচন প্রস্তূতি কমিটি সূত্রে জানা যায়, জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে ৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২০জন। প্রতিদ্বন্দ্বী পদ সভাপতি পদে ৭জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৫জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২জন এবং কার্যকারী সদস্য পদে ৬জন ব্যালট ভোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী করেছেন এ নির্বাচনে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কোনরুপ অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মাধ্যমে নির্বাচন সুসম্পূর্ণ হয়। ভোট গণনা শেষে বে-সরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষনা করেন জেলা রেজিস্ট্রার এম এম সোহেল রানা মিলন।
উক্ত নির্বাচনী ফলাফলে সভাপতি পদে ৭জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও ব্যালট ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ছাইদুল আলম সরকার। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৩ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজাদ হোসেন সরকার পেয়েছেন ১৭ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২২ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মোনাব্বুল হক। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৩ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ ভোট পেয়েছেন ২৭টি ভোট। এছাড়া ৫জন কার্যকারী সদস্য পদে ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাশেম। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৯টি এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৭৫ ভোট। ফলাফল ঘোষনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের গলার বিজয়ী মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় সাবরেজিস্টার অফিসে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ করা গেছে। ফলাফল ঘোষনার পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজয়ী সভাপতি ছাইদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু সরকার বলেন, সহকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবং তাদের আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে সহকর্মীরা আমাদের সম্মানিত করেছে আমরা যেন তাদের সেই আশা প্রত্যাশা পুরন করতে পারি মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট সে আশাই করি।
সেই সঙ্গে জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের সার্বিক উন্নয়ন কল্পে এ দলিল লেখক সমিতি কাজ করবে এমন আশা ব্যক্ত করছি। উল্লেখ্য, নানান অনিয়ম দূর্নীতি ও অবব্যস্থাপনার মাধ্যমে চলছিল জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এমনও অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন সাবরেজিস্টার অফিসের সাবরেজিস্টারকে হাত করে দলিল লেখক সমিতির একটি পক্ষ সেবা নিতে আশা সাধারণ গ্রাহকদের উপর উপরন্তু ট্যাক্স বশিয়ে উৎকুশ আদায় করতো। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, ঘেরাও কর্মসূচিসহ আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছিল জলঢাকা সাবরেজিস্টার অফিস।
তখন থেকে প্রায় একটি বছর সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থিবর নেমে এসেছিল দলিল লেখক সমিতির। সম্প্রতি নানাবিধ আলোচনা ও সমালোচনার শীর্ষে থেকে নব উদ্যোমে অধিষ্ঠিত করতে দলিল লেখক সমিতির এ ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। তবে সচেতন মহল থেকে সূধী সমাজের দাবী পূর্বের ন্যায় যেন দূর্নীতিতে জরিয়ে না পরে নবনির্বাচিত এ দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।