জামায়াত কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে : সালাহউদ্দিন আহমদ
- আপডেট সময় : ১২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা কারা, জনগণ তা ভালো করেই জানে। যারা একদিন এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মা–বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে, তারা কীভাবে আজ স্বাধীনতার ইতিহাসের কথা বলে—নাউজুবিল্লাহ।”
গতকাল শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সেই দল, যারা সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই আদর্শের দল।”
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে উঠে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সমতল-পাহাড় সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন। বিএনপি কখনো ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করেনি।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, যারা সস্তা দামে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার রাজনীতি করে, মা–বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তারা কোনোদিনই এ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। যাদের পাসপোর্টে বাংলাদেশি পরিচয় লেখা আছে, তারাই এ দেশের প্রকৃত নাগরিক।
২৪-এর ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, তাদের স্বপ্ন বিএনপি ধারণ করে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি কাজ করতে চায়।
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি আজ নতুন করে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখার চেষ্টা করছে। অথচ ইতিহাস পরিষ্কার—২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালায় এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ কারণেই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।
এ সময় তিনি কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “জামায়াত কোনো ইসলামিক দল নয়, এটি মওদুদী ইসলাম। ইসলামের লেবাস ব্যবহার করে একটি দল ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর। বাংলাদেশকে আমরা দিল্লি বা ওয়াশিংটন—কোনো শক্তির তালুকদার হতে দেব না।”
সভায় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য মানুষের জমি অধিগ্রহণ করলে অবশ্যই সম্মতি ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। খাস জমি ও পিএফ জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের আতঙ্কে রাখা অগ্রহণযোগ্য। প্রয়োজনে আইন করে তাদের বৈধতা দিতে হবে এবং উচ্ছেদ হলে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যটন শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নানা বিধিনিষেধে এ খাত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটন শিল্প উন্মুক্ত করা, বিদেশি বিনিয়োগ আনা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
ব্লু ইকোনমির কথা উল্লেখ করে তিনি কক্সবাজারে সমুদ্র সম্পদভিত্তিক গবেষণা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।
বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।

















