টেকনাফে গাছ ভেঙে চলন্ত মাইক্রোবাসে, রক্ষা ২০ যাত্রী
- আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আরকান সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে একটি মিনি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে আহতদের উদ্ধারের সময় রাস্তার পাশের একটি বিশাল বটগাছ ভেঙে উদ্ধারকারী ও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির ওপর পড়ে। এতে দুর্ঘটনায় আহতদের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় লোকজনও আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফমুখী একটি কালো রঙের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একটি মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মিনি ট্রাকটির তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় মাইক্রোবাসের চালক গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার একটি পা ভেঙে গেছে। মাইক্রোবাসে থাকা অন্যান্য আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় পড়া মাইক্রোবাসটি একটি এনজিওর ব্যবহৃত গাড়ি ছিল।এদিকে উদ্ধার অভিযান চলাকালে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তার পাশের একটি বিশাল বটগাছ হঠাৎ ভেঙে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস ও উদ্ধারকারীদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।এ ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সালাহ উদ্দিন (৩০), পিতা: আমির হোসাইন, গ্রাম: কানজরপাড়া, হোয়াইক্যং, গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাছটি তার মাথার ওপর পড়ে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী মোজাম্মেল হকও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় কয়েকজনের হাতে থাকা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।দুর্ঘটনা এবং পরবর্তীতে বটগাছ ভেঙে পড়ার কারণে আরকান সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে স্থানীয় জনতা, উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতায় ভেঙে পড়া গাছ অপসারণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার হলেও দুর্ঘটনার খবর দেওয়ার পরও প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির(ওসি) নুরুল আবছার সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ জনগণের বন্ধু। আমাদের গাড়ির যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।”ঘটনার কিছুক্ষণ পর হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে গাছটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখানে কারও অবহেলা বা হাত নেই।”পরে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনিক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতদের চিকিৎসা বিভিন্ন হাসপাতালে চলছিল। দুর্ঘটনায় আহতদের সঠিক সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।















