নান্দাইলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বিদ্যালয়ের জমি হারানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের নান্দাইলের ঐতিহ্যবাহী চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে সরকারীকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টির দক্ষিণ পাশে নরসুন্ধা নদী এবং বাকি তিন পাশে সীমানা প্রাচীর রয়েছে। সম্প্রতি উত্তর পাশের ৬৪২ ফুট দীর্ঘ পুরোনো ও নিচু প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরসিসি পিলারসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের ৬৪২ ফুট দীর্ঘ পুরোনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে নতুন আরসিসি পিলার ও প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো প্রাচীরের অবস্থান ধরে নির্মাণকাজ না করে এক থেকে দেড় ফুট ভেতরে ৪২টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় দুই থেকে তিন শতক জমি সীমানার বাইরে চলে যাবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সামান্য নির্মাণসুবিধার জন্য সরকারি মূল্যবান জমি ছেড়ে দিয়ে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের যৌক্তিকতা কী।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসনীম রেজা ছন্দ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মাপজোক করেই প্রাচীরের স্থান নির্ধারণ করেছেন। পুরোনো প্রাচীরসংলগ্ন স্থানীয় কয়েকটি বাথরুমের ট্যাংক ও পাইপ এবং প্লাস্টারের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ফকির বলেন, সরকারি জমি ছেড়ে দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পুনরায় মাপজোক করে প্রকৃত সীমানা অনুযায়ী প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান।
ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহসিনা খাতুন বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্ধারিত স্থানেই কাজ হওয়ার কথা। বিনা কারণে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের হলেও সীমানা নির্ধারণ করে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।














