পদ্মায় মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে একটি কান বিচ্ছিন্ন
- আপডেট সময় : ৪৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে চরকুড়ুলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত সোমবার বিকেল ৫,৩০ মিনিটের সময় উপজেলার চরকুড়ুলিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদীর সোনার চর লাল গোলা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল সরদারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় চরকুড়ুলিয়ার নসিরের ঘাট এলাকার মৃত তালেব মাঝির ছেলে নাইম হোসেন (২৫) কয়েকদিন আগে রেজাউলের মাছ ধরার জাল চুরি করে। সোমবার বিকেলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রেজাউল সরদার নাইমকে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাইম পেছন দিক থেকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রেজাউলের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। হামলায় রেজাউলের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নাইম তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রেজাউলের সঙ্গে থাকা বিশু মণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাইম হোসেন পলাতক রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আহত রেজাউলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















