প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা
প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুই হোতাসহ গ্রেপ্তার ২৮
- আপডেট সময় : ১১০ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুই হোতাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১ টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ডিভাইসসহ নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার নওগাঁয় জেলার ৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে৷ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যলায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই প্রতারক হলেন, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব(৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আসে একজন প্রতারক কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে নওগাঁ শহরে অবস্থিত পোরশা রেস্ট নামক একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষার্থীসহ অবস্থান করছে। খবর পেয়ে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে ওই আবাসিক হোটেলের ১১ নং কক্ষ থেকে প্রতারক আহসান হাবিব (৪০) এবং তার সহযোগী প্রতারক মামুনুর রশিদ এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুর এবং তার পিতা ফারাজুলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রতারক আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। ওই আবাসিক হোটেলের অন্যান্য রুমে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোনেও পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। অপর আরেকটি কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী সারোয়ার এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আহসান হাবিব জানায় সে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নিবে মর্মে চুক্তি করে। সে চুক্তি মোতাবেক পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান ও ফারুকের কাছ থেকে এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা নেয় এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুরের পিতা ফারাজুলের কাছ থেকে অগ্রীম ৩০ হাজার টাকা নেয়।
তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের হোটেল নীলসাগরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী রেহান জান্নাতকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তার দুলাভাই (স্বামীর খালাতো বোনের স্বামী) মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হক শালু তাকে ৬ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তিতে লিখত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়। এছাড়া মহাদেবপুরে একজনকে এবং শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অসৎ উপায় অবলম্বন করে আধুনিক ডিভাইসের সাহায্যে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগে সদর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আটজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সকলের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুশফিকুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাবিবুল্লাহ হাবিব, সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নিয়ামুল হকসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী উপজেলা পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশির বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিভাইসহ তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে দুইজনের বাড়ী মাদারীপুর জেলায়, একজনের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা ও বাকী ৭ জনের বাড়ি নাগেশ^রী উপজেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বলে জানা গেছে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান জানায়, পরীক্ষা শুরুর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্তে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রস্তুতির সময় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের কাছে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ডিভাইস পাওয়া গেছে। তবে পরীক্ষার কেন্দ্রে দেয়া প্রশ্নপত্রের সাথে আটককৃতদের নিকট পাওয়া প্রশ্নপত্রের মিল আছে কি না তা এখনও মিলিয়ে দেখা হয়নি।
আজ বিকেল ৩ টায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, সদর ও উলিপুর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২৪ হাজার ২শ ৭৪ জন পরীক্ষার্থী।













