ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

ফুলবাড়ীয়ায় হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর আজ

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আড়াই শত বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর। প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষ সংক্রান্তির শেষ বিকেলে উপজেলার তেলিগ্রাম বড়ই আটা বন্দ মাঠে তালুক পরগনার সীমান্তে এই ঐতিহাসিক খেলাটির আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পৌষ মাসের শেষ দিনকে বলা হয় পহুরা। এই দিনে অনুষ্ঠিত হুমগুটি খেলা ফুলবাড়ীয়ার মানুষের কাছে শুধু একটি খেলা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের এক অনন্য মিলনমেলা। প্রায় দুই শতাধিক বছর ধরে একই স্থানে বছরে একবার করে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
হুমগুটি খেলায় ব্যবহৃত হয় প্রায় ২০ কেজি ওজনের পিতলের তৈরি একটি গুটি। ঢাক ঢোলের তালে তালে গুণকীর্তন গেয়ে ও নেচে গেয়ে তালুক ও পরগনার মানুষ গুটিটি নিজ নিজ এলাকায় নেওয়ার জন্য শক্তির পরীক্ষা দেন। যে পক্ষ শেষ পর্যন্ত গুটিটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে গুম (লুকিয়ে) করতে পারে, তারাই বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হয়। এই খেলায় সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
এই ঐতিহ্যবাহী খেলার পেছনে রয়েছে জমিদারি আমলের এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্ত ও ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ থেকেই হুমগুটি খেলার সূচনা। ইতিহাস অনুযায়ী সেই খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারাই বিজয়ী হয়েছিল।
আজও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালুক-পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর ও বোরো চাষের আগমুহূর্তে প্রজাদের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই আয়োজন যুগের পর যুগ ধরে টিকে আছে।
হুমগুটি খেলাকে কেন্দ্র করে আজ ফুলবাড়ীয়া ও আশপাশের এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ বড়ই আটা বন্দ মাঠে এসে জড়ো হন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া সড়কের লক্ষীপুর ও দশ মাইলের মাঝামাঝি এলাকায়, বিশেষ করে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর ও তেলিগ্রামের সংযোগস্থলে মানুষের ঢল নামে।
বিকেল আনুমানিক আড়াইটার দিকে খেলা শুরু হয়। আত্মীয়স্বজনের ভিড়, গুণকীর্তন, ঢাক-ঢোল আর মানুষের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল লোকজ উৎসবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুল হক আশিক বলেন,হুমগুটি খেলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শন। এ ধরনের আয়োজন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগ্রত রাখে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ফুলবাড়ীয়া সমিতি ময়মনসিংহের আহ্বায়ক এডভোকেট মাহবুবুর রশীদ তামান্না বলেন,হুমগুটি খেলা শুধু একটি খেলাই নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও লোকজ সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহ্য সারাদেশে আরও বেশি পরিচিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফুলবাড়ীয়ায় হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর আজ

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আড়াই শত বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর। প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষ সংক্রান্তির শেষ বিকেলে উপজেলার তেলিগ্রাম বড়ই আটা বন্দ মাঠে তালুক পরগনার সীমান্তে এই ঐতিহাসিক খেলাটির আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পৌষ মাসের শেষ দিনকে বলা হয় পহুরা। এই দিনে অনুষ্ঠিত হুমগুটি খেলা ফুলবাড়ীয়ার মানুষের কাছে শুধু একটি খেলা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের এক অনন্য মিলনমেলা। প্রায় দুই শতাধিক বছর ধরে একই স্থানে বছরে একবার করে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
হুমগুটি খেলায় ব্যবহৃত হয় প্রায় ২০ কেজি ওজনের পিতলের তৈরি একটি গুটি। ঢাক ঢোলের তালে তালে গুণকীর্তন গেয়ে ও নেচে গেয়ে তালুক ও পরগনার মানুষ গুটিটি নিজ নিজ এলাকায় নেওয়ার জন্য শক্তির পরীক্ষা দেন। যে পক্ষ শেষ পর্যন্ত গুটিটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে গুম (লুকিয়ে) করতে পারে, তারাই বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হয়। এই খেলায় সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
এই ঐতিহ্যবাহী খেলার পেছনে রয়েছে জমিদারি আমলের এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্ত ও ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ থেকেই হুমগুটি খেলার সূচনা। ইতিহাস অনুযায়ী সেই খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারাই বিজয়ী হয়েছিল।
আজও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালুক-পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর ও বোরো চাষের আগমুহূর্তে প্রজাদের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই আয়োজন যুগের পর যুগ ধরে টিকে আছে।
হুমগুটি খেলাকে কেন্দ্র করে আজ ফুলবাড়ীয়া ও আশপাশের এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ বড়ই আটা বন্দ মাঠে এসে জড়ো হন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া সড়কের লক্ষীপুর ও দশ মাইলের মাঝামাঝি এলাকায়, বিশেষ করে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর ও তেলিগ্রামের সংযোগস্থলে মানুষের ঢল নামে।
বিকেল আনুমানিক আড়াইটার দিকে খেলা শুরু হয়। আত্মীয়স্বজনের ভিড়, গুণকীর্তন, ঢাক-ঢোল আর মানুষের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল লোকজ উৎসবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুল হক আশিক বলেন,হুমগুটি খেলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শন। এ ধরনের আয়োজন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগ্রত রাখে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ফুলবাড়ীয়া সমিতি ময়মনসিংহের আহ্বায়ক এডভোকেট মাহবুবুর রশীদ তামান্না বলেন,হুমগুটি খেলা শুধু একটি খেলাই নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও লোকজ সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহ্য সারাদেশে আরও বেশি পরিচিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।