ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দিনাজপুরে ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন, কেন্দ্রসচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি Logo মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত কমিটিকে মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটির ফুলেল শুভেচ্ছা Logo ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় শিশু মৃত্যু বেড়েছে, অভিযোগ সিপিবির Logo ডামুড্যায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত Logo বিসিআরএসআর প্রকল্প ঘুরে দেখলেন প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুল আবেদীন Logo ‘অবৈধ দখল মুক্ত করা হবে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী’ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে গরু জব্দ Logo ঈশ্বরদীতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo গৌরীপুরে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ শুরু Logo টেকনাফে অস্ত্র-গুলি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হেলমেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড

ভাড়ার চাপে পিষ্ঠ যাত্রী

মহিউদ্দিন তুষার
  • আপডেট সময় : ১২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের গণপরিবহন খাতে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় ভাড়ার বাড়তি চাপ এখন যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে বাস্তবে বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র আরও বৈচিত্র্যময় এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি প্রায় ১১ পয়সা বাড়িয়েছে। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক রুটে এই নির্ধারিত হার ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলার আন্তঃজেলা রুটে ভাড়া বৃদ্ধির হার একরকম নয়। বরিশাল অঞ্চলে কিছু রুটে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার রাজশাহী-ঢাকা রুটে এসি বাসের ভাড়া এক ধাক্কায় প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কুমিল্লা-ঢাকা রুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার ভেতরেও লোকাল বাসে ঘোষণার আগেই যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি নির্ধারণের বাইরে গিয়ে বাস্তবে ভাড়া বৃদ্ধি আরও বেশি হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে, যা যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধিতে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তালিকা না থাকায় চালক ও সহকারীরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন। ঢাকা থেকে বরিশালগামী এক যাত্রী বলেন, গত মাসেও যেখানে ৫০০ টাকায় যেতাম, এখন সেখানে ৬০০-৬৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো রশিদ বা নির্দিষ্ট হার নেই। আরেক যাত্রী জানান, প্রতিদিন যাতায়াত করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। বেতন তো বাড়েনি, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে।
পরিবহন মালিকরা অবশ্য ভাড়া বৃদ্ধিকে ‘অপরিহার্য’বলেই দাবি করছেন। একজন বাস মালিক বলেন,জ্বালানি তেলের দাম একবার বাড়লে আমাদের প্রতিদিনের অপারেটিং খরচ অনেক বেড়ে যায়। সরকার যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় মিলছে না। তবে মালিক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণের আগে ইচ্ছেমতো ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ানো স্বাভাবিক হলেও তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত। তারা বলছেন, ভাড়া নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ সূত্র থাকা উচিত এবং প্রতিটি বাসে ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে টাঙাতে হবে। এদিকে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের কারণে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময়ও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকার ভাড়া সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর যথাযথ মনিটরিং না থাকায় অনেক জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। দূরপাল্লার যাত্রা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছ ভাড়া তালিকা এবং যাত্রীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির চাপ আগামী দিনে আরও বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে-এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভাড়ার চাপে পিষ্ঠ যাত্রী

আপডেট সময় :

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের গণপরিবহন খাতে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় ভাড়ার বাড়তি চাপ এখন যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে বাস্তবে বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র আরও বৈচিত্র্যময় এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি প্রায় ১১ পয়সা বাড়িয়েছে। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক রুটে এই নির্ধারিত হার ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলার আন্তঃজেলা রুটে ভাড়া বৃদ্ধির হার একরকম নয়। বরিশাল অঞ্চলে কিছু রুটে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার রাজশাহী-ঢাকা রুটে এসি বাসের ভাড়া এক ধাক্কায় প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কুমিল্লা-ঢাকা রুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার ভেতরেও লোকাল বাসে ঘোষণার আগেই যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি নির্ধারণের বাইরে গিয়ে বাস্তবে ভাড়া বৃদ্ধি আরও বেশি হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে, যা যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধিতে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তালিকা না থাকায় চালক ও সহকারীরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন। ঢাকা থেকে বরিশালগামী এক যাত্রী বলেন, গত মাসেও যেখানে ৫০০ টাকায় যেতাম, এখন সেখানে ৬০০-৬৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো রশিদ বা নির্দিষ্ট হার নেই। আরেক যাত্রী জানান, প্রতিদিন যাতায়াত করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। বেতন তো বাড়েনি, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে।
পরিবহন মালিকরা অবশ্য ভাড়া বৃদ্ধিকে ‘অপরিহার্য’বলেই দাবি করছেন। একজন বাস মালিক বলেন,জ্বালানি তেলের দাম একবার বাড়লে আমাদের প্রতিদিনের অপারেটিং খরচ অনেক বেড়ে যায়। সরকার যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় মিলছে না। তবে মালিক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণের আগে ইচ্ছেমতো ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ানো স্বাভাবিক হলেও তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত। তারা বলছেন, ভাড়া নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ সূত্র থাকা উচিত এবং প্রতিটি বাসে ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে টাঙাতে হবে। এদিকে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের কারণে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময়ও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকার ভাড়া সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর যথাযথ মনিটরিং না থাকায় অনেক জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। দূরপাল্লার যাত্রা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছ ভাড়া তালিকা এবং যাত্রীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির চাপ আগামী দিনে আরও বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে-এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।