মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের দূষণের অভিযোগে শেরপুরে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা দক্ষিণপাড়ায় মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের বয়লারের ছাই ও দূষিত পানির কারণে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত দূষণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কারখানার উত্তর পাশে ছোনকা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কারখানার বয়লারের ছাই ও দূষিত পানির কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাতাসে ছাই উড়ে মানুষের চোখের ক্ষতি হচ্ছে এবং অনেককে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাইও বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী হাসান আলী, শাহাদাত হোসেন, হায়দার আলী ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, কারখানার ছাই ও দূষিত পানির কারণে তাদের জমিতে ঠিকমতো ফসল হচ্ছে না। বাতাসে ছাই উড়ে মানুষের চোখের ক্ষতি করছে এবং পরিবেশ দূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির মিঠু বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মজুমদার ফুড প্রোডাক্টস কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ার খালিদ বলেন, তাদের কারখানার কোনো দূষিত পানি উত্তর দিকে যায় না। বর্জ্য পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যবস্থায় ফুলজোড় নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এছাড়া বয়লারের ছাই যাতে বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আধুনিক অ্যাশ চেম্বার ব্যবহার করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী দল ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধন থেকে পরিবেশ দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং নিয়মিত পরিবেশগত তদারকির দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন অংশগ্রহণকারীরা।

















