মহেশখালীতে অস্ত্র-গুলিসহ ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান আটক
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চক্রটি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, নয়টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড খালি কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ‘মিন্টু বাহিনীর’ প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, তাঁর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকাতেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালান দমনে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
















