মানিকগঞ্জ সদরে মাটি কাটলেই অভিযান : ইউএনও
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কালিগঙ্গা নদীর পাড় এবং দেবত্তর সম্পত্তি সংখ্যালঘুদের প্রায় ৯৩ শতাংশ জমির মাটি প্রায় সাত বছর ধরে একমাত্র বৃষ্টি বাদল ছাড়া প্রতিদিন কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের সংবাদ প্রকাশ হলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও) মৌসুমী নাসরিন বলেন, মাটিকাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা যায় ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চৌল্লা গ্রামে চৌল্লা নদীর পাড় এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারের জমির মাটি দেবতার সম্পত্তি অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন রায়হান রমজান মাটি খেকু চক্র। যার ফলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সাত বছর ধরে রমজান রায়হান চক্রের মাটি খেকুরা দিনের বেলাতেই দক্ষিণ চৌল্লা গ্রামের নদী পাড়ের সরকারি খাস জমি এবং দেবত্তর সম্পত্তি- সংখ্যালঘুদের ৯৩ শতাংশ জমির মাটি কেটে নেয়া যাওয়ার ফলে পূজা উদযাপন কমিটির সংখ্যালঘুরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাদ যাচ্ছে না ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি কাটা। প্রতি দিন ৫০-৬০ ট্রাক মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন বলে জানা যায় ।
ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসিল্যান্ড অফিস, ইউএনও অফিস এবং ডিসি অফিসে অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না।এমনটাই অভিযোগ করছেন পূজা উদযাপন কমিটি।
ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, নদীর পাড়ে অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে ইউএনও এসিল্যান্ড কে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে, কিন্তু মাটি খেকোরা পালিয়ে যাওয়ার কারণে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, নদীর পাড় কেটে ফেলায় বর্ষায় পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হবে। গ্রাম রক্ষা বাঁধও ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ মাটি খেকু রমজান রায়হান সহ অদৃশ্য ভূমিদস্যুদের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ চৌল্লা, মধ্য চৌল্লা ও উত্তর চৌল্লার অন্তত ২০০ পরিবার প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। সংখ্যালঘু পরিবারগুলো বলছে, জমি হারানোর ভয়ে তারা কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।
যারা মাটি কাটছে তারা স্থানীয় প্রভাবশালী। পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কাজ করছেন, বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা।
আইনজীবী ও ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস জমি বা নদীর পাড়ের মাটি কাটা ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি মালিকের সম্মতি ছাড়া কাটলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।বাংলাদেশে নদীর পাড় এবং দেবোত্তর সম্পত্তির মাটি সরকারি আইন অমান্য করে বিক্রি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। নদীর পাড় ও তলদেশ থেকে মাটি/বালু বিক্রির শাস্তিআইন: বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী)। অবৈধভাবে নদীর পাড় বা তলদেশ থেকে মাটি কাটলে বা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।অন্যান্য আইন: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা নদী থেকে বালু/মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন ভাঙলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মামলা করা যায়।দেবোত্তর সম্পত্তির মাটি বিক্রির, দেবোত্তর সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩। দেবোত্তর সম্পত্তি বেআইনিভাবে হস্তান্তর, জবরদখল বা নষ্ট করলে ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তরযোগ্য নয়। অবৈধ মাটি উত্তোলনের সাধারণ শাস্তিআইন: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১ (খসড়া অনুযায়ী)। সরকারি বা বেসরকারি জমি, নদীর পাড়, বা তলদেশ থেকে মাটি কাটলে বা কাটালে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।অবৈধভাবে মাটি কাটা বা বিক্রি করলে জেলা প্রশাসক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক দণ্ড দিতে পারেন।ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১ অনুযায়ী, জাল দলিল তৈরি করে বা জবরদখল করে মাটি বিক্রি করলে ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও নদীর পাড় পুনর্ভরাট, সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জোর দাবি জানিয়েছেন সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগোষ্ঠী এবং এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন করবে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















