মানিকছড়িতে মো. বাবুল মৃত্যুর ঘটনায় সাংবাদিক সম্মেলন
- আপডেট সময় : ৩১ বার পড়া হয়েছে
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার থলিপাড়া এলাকায় সরকারী অভিযানে জব্ধকৃত পে লোডার (বোলডোজার)দুর্ঘটনায় নিহত মোঃ বাবুলের অপমৃত্যুর অভিযোগে গতকাল সন্ধ্যা ৭.০০ টায় মানিকছড়ি প্রেস ক্লাবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সন্মেলন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানাগেছে পাহাড়কাটা প্রশাসনের একটি নিয়মিত অভিযান তারই অংশ হিসেবে ১২ এপ্রিল মানিকছড়ি থলিপাড়া এলাকায় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে,মাটিকাটার পেলোডার গাড়ির ড্রাইভার প্রশাসনের উপস্হিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলে এয়াতলংপাড়ার মোঃ বাবুলকে দিয়ে গাড়িটি থানায় আনার চেষ্টা করলে দুর্ভাগ্যক্রমে পেলোডার দুর্ঘটনা হয় এবং মোঃ বাবুল গুরুতর আহত হলেঐদিনই তাকে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।অবস্হার উন্নতি নাহলে ১৩ এপ্রিল সকাল ১০.০০ চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।কিন্তু মোঃ বাবুলকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি, ১৭ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না-লিল্লাহ অইন্নাইলাইহে রাজিউন) এদিকে বাবুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তারের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান নিহতের স্ত্রী ও তার নিকটাত্মীয় মোঃ মন্ছুর।এসময় মানিকছড়ি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকেরা উপস্হিত ছিলেন।
বাবুলের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন উপজেলা প্রশাসনের চরম গাফেলতির কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।১২ এপ্রিল তারিখে প্রশাসন পেলোডার গাড়ি জব্ধ করার পর বাবুলকে ফোন করে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জোরকরে ধরে নেয়া হয়।তাকে ত্রুটিপূর্ণ গাড়িটি চালানোর জন্য বাধ্য করা হয়।ঘটনাস্হলে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোঃ বাবুল গাড়িটি চালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন, সে বলেছিল এই গাড়িটি চালনায় সে দক্ষ নয়,তার হেভি লাইসেন্স নেই,তারপরও তাকে গাড়ি চালাতে বাধ্য করে, পেলোডারটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়,একারণেই মোঃ বাবুলের মৃত্যুর জন্য প্রশাসন দায়ি।দুর্ঘটনার পরপর বাবুলের স্ত্রীকে জানানো হয়নি,বিলম্বে জানানো হয়েছে।চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে, যথাসময়ে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়নি,নানা অজুহাতে চিকিৎসায় কালবিলম্ব করা হয়েছে,যারফলে মোঃ বাবুল মৃত্যুবরণ করে।সংবাদ সন্মেলনে বাবুলের স্ত্রী কিছু দাবি জানিয়েছেন যাহল নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে,জোড়করে গাড়ি চালনায় যারা বাধ্য করেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে,চিকিৎসায় অবহেলা কারিদের চিহ্ণিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে,বাবুলের পরিবারের জন্য যথাযথ
ক্ষতিপুরণ ও স্হায়ী পুনর্বাসন করতে হবে,বাবুলের স্ত্রীর জন্য একটি স্হায়ী কর্মসংস্থানের ব্যাবস্হা করতে হবে,প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করা হয়েছে।বাবুলের পরিবার সত্য প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।এছাড়া স্বেচ্ছসেবি প্রতিষ্ঠান “ওয়াদুদ ভুঁইয়া ফাউন্ডেশন “এর সভাপতি মাসুদুজ্জামান বলেন আমরা এই বাবুল হত্যাকান্ডের ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য আন্দোলন চলমান আছে মানববন্ধন করা হয়েছে, জেলা প্রশাসককে স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে, এলাকাবাসি আমাদের সাথে রয়েছে, আমরা বাবুলের ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য সকল ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, তিনি জানান এতে ও সমাধান না হলে এটি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।


















