ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

লোহাগাড়ায় ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

দেলোয়ার হোসেন রশিদী, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
  • আপডেট সময় : ১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লোহাগাড়ায় গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মাটির ঘর ও গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার পানিবন্দী মানুষদের।
অতি বৃষ্টিতে নদী-খাল-বিল ও ছড়ায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করছে । এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে উপজেলার আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা বৃষ্টিতে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখনও পানিবন্দি।
এছাড়া টংকাবতীর খালের পানি ঢুকে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনগর,পুটিবিলা,চুনতি,বড়হাতিয়া ও কলাউজানের কয়েকটি এলাকাতেও পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে। আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর ইউনিয়নে সর্দানী পাড়ার ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। ইতিমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়া প্লাবিত হয়েছে এবং উত্তর হরিনা ওঝা পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘর ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের ০১৮৭১০৯৯৬২৩, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ০১৭৫৫৯৬৬৩৪৪ এবং আইটি টেকনিশিয়ান আরিফের ০১৮১২-৭৬০৭৮৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান,ডলু খাল এবং হাতিয়ার খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পানিবন্দী মানুষদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রয়োজন হলে ইউনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, আপাতত প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লোহাগাড়ায় ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় :

লোহাগাড়ায় গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মাটির ঘর ও গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার পানিবন্দী মানুষদের।
অতি বৃষ্টিতে নদী-খাল-বিল ও ছড়ায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করছে । এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে উপজেলার আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা বৃষ্টিতে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখনও পানিবন্দি।
এছাড়া টংকাবতীর খালের পানি ঢুকে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনগর,পুটিবিলা,চুনতি,বড়হাতিয়া ও কলাউজানের কয়েকটি এলাকাতেও পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে। আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর ইউনিয়নে সর্দানী পাড়ার ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। ইতিমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়া প্লাবিত হয়েছে এবং উত্তর হরিনা ওঝা পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘর ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের ০১৮৭১০৯৯৬২৩, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ০১৭৫৫৯৬৬৩৪৪ এবং আইটি টেকনিশিয়ান আরিফের ০১৮১২-৭৬০৭৮৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান,ডলু খাল এবং হাতিয়ার খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পানিবন্দী মানুষদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রয়োজন হলে ইউনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, আপাতত প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।