ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

শেরপুরে জমি নিবন্ধনে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার সুযোগে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়ম এবং ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩২৮ শতক জমির নিবন্ধনের জন্য ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ও বিক্রেতা সামসুজ্জোহা উপস্থিত হন। জমির মূল্য বাবদ সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার মাধ্যমে আটটি পে-অর্ডারে মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেদিন দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় পে-অর্ডারগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিচারাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডার নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

কিন্তু ওই আবেদন উপেক্ষা করে গত ৭ মে আরও প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ক্রেতা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, জমির দলিলে তাঁর স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানমের নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামে এক অপরিচিত নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের অবমুক্তির নির্দেশে দুটি পে-অর্ডারের অর্থ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী দুটি পে-অর্ডার নগদায়নের চেষ্টা হলে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উত্তোলিত অর্থ তানিয়া আক্তার ও আমমোক্তার নূর আলম শাকিলের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে ক্রেতার স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানম অভিযোগ করেন, গত ২২ জুলাই তদন্তের নামে তাঁদের দপ্তরে ডেকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তবে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, উভয় পক্ষ থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেরপুরে জমি নিবন্ধনে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার সুযোগে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়ম এবং ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩২৮ শতক জমির নিবন্ধনের জন্য ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ও বিক্রেতা সামসুজ্জোহা উপস্থিত হন। জমির মূল্য বাবদ সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার মাধ্যমে আটটি পে-অর্ডারে মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেদিন দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় পে-অর্ডারগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিচারাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডার নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

কিন্তু ওই আবেদন উপেক্ষা করে গত ৭ মে আরও প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ক্রেতা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, জমির দলিলে তাঁর স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানমের নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামে এক অপরিচিত নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের অবমুক্তির নির্দেশে দুটি পে-অর্ডারের অর্থ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী দুটি পে-অর্ডার নগদায়নের চেষ্টা হলে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উত্তোলিত অর্থ তানিয়া আক্তার ও আমমোক্তার নূর আলম শাকিলের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে ক্রেতার স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানম অভিযোগ করেন, গত ২২ জুলাই তদন্তের নামে তাঁদের দপ্তরে ডেকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তবে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, উভয় পক্ষ থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।