মেঘনার আগ্রাসন থামাতে মাঠে সরকার
সুবর্ণচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া অঞ্চলে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আগামী অর্থবছর থেকেই স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙনরোধী কাজ শুরু করা হবে।
গতকাল রোববার সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন এর কাটাখালী বাজার ও আশপাশের মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী নদীভাঙনের ভয়াবহতা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “চোখের সামনেই মানুষের বসতভিটা, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এলাকাটি পরিদর্শনে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় স্থানীয়দের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ‘ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক’ বা জরুরি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুই থেকে তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “উড়িরচর, স্বর্ণদ্বীপ, ভাসানচরসহ পুরো হাতিয়া অঞ্চলের নদীভাঙন পরিস্থিতির ওপর আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প চলমান থাকলেও সুবর্ণচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে টেকসই ও স্থায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি জানান, চলমান স্টাডি রিপোর্ট সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী অর্থবছরের মধ্যেই স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু ও দ্রুত বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। এই সময়ে জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি সেক্টরে নিরলসভাবে কাজ করছি।”
তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান-এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এলাকার জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো তিনি গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের কাছে তুলে ধরছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান, শফিকুল ইসলাম, এটিএম মোশাররফ হোসেন, মাহবুব আলমগীর চৌধুরী আলো, হারুন অর রশীদ আজাদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

















