ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

৭০ লাখ টাকার এইচবিবি সড়কে অনিয়মের অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বউবাজার-খুরতা গ্রামীণ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘হেরিং বোন বন্ড’ (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ইট নড়ে যাওয়া ও সড়ক ধসে পড়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের ফাঁক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। কোথাও কোথাও আধা ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রেখে ইট বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক্কলন অনুযায়ী এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশের গাছের গোড়ায় নিয়ম অনুযায়ী ইট না বসিয়ে এলোমেলোভাবে কাজ করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ইটের নিচের বালু ধুয়ে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ ও খোকন মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে এটি দীর্ঘদিন টিকবে না বলে তাদের আশঙ্কা।

আরেক বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, জনগণের অর্থে উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে বউবাজার-খুরতা সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ কারণে সড়কটি এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বার বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্তে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করার প্রমাণ মিললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে।

এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা নির্মাণকাজের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিম্নমানের কাজ বাতিল করে প্রাক্কলন অনুযায়ী নতুন করে মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৭০ লাখ টাকার এইচবিবি সড়কে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বউবাজার-খুরতা গ্রামীণ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘হেরিং বোন বন্ড’ (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ইট নড়ে যাওয়া ও সড়ক ধসে পড়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের ফাঁক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। কোথাও কোথাও আধা ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রেখে ইট বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক্কলন অনুযায়ী এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশের গাছের গোড়ায় নিয়ম অনুযায়ী ইট না বসিয়ে এলোমেলোভাবে কাজ করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ইটের নিচের বালু ধুয়ে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ ও খোকন মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে এটি দীর্ঘদিন টিকবে না বলে তাদের আশঙ্কা।

আরেক বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, জনগণের অর্থে উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে বউবাজার-খুরতা সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ কারণে সড়কটি এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বার বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্তে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করার প্রমাণ মিললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে।

এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা নির্মাণকাজের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিম্নমানের কাজ বাতিল করে প্রাক্কলন অনুযায়ী নতুন করে মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।