ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এম-ট্যাবের স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল Logo অবৈধ বালু উত্তোলনে সর্বনাশের পথে জনপদ Logo স্বতন্ত্র প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্যারিস্টার মওদুদ পত্নী Logo জয়পুরহাট সীমান্তে বেকারত্ব দূরিকরণে বিজিবির ফ্রিল্যান্সিং Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ Logo মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জগন্নাথকাঠী বন্দরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo শাল্লায় টাকার বিনিময়ে প্রকল্প অনুমোদনের অভিযোগ জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে Logo ত্রিশালে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ Logo ডিমলায় বুড়ি তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর।। Logo বিশ্বনাথ পৌর শহরের প্রায় দুই শতাধিক অসহায়-গরীব-দুস্থ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের আড়ালে হরিলুট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ৬৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুয়েতে ভিসা প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফির চেয়ে অন্তত ৭ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে-বছরের পর বছর ধরে ওই সিন্ডিকেট কুয়েতে কাজের ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার সিন্ডিকেট ভাঙতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিশন ওই গ্রুপটির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তলব করা হয়েছে সিন্ডিকেট প্রধান আব্দুস সালাম আরেফকে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুসারে, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। তবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করে দেশটির ভিসা প্রসেসিং করে আসছে। যদিও দেশে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা। তবে সিন্ডিকেট নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে। এভাবে গত ৮ বছরে তারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিযোগিতা কমিশন ও রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ নারী গৃহকর্মী। সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভিসা ফির বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ শুরু করেছে সরকার। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিশনার ওই কুয়েত ভিসা সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে মর্ডান ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে। সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্তে অনুসন্ধান কমিটিও করেছে সরকারি সংস্থাটি। গত ৪ জানুয়ারি আব্দুস সালাম আরেফকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, ধার্য তারিখে (৮ জানুয়ারি) ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রিরও একটি অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা তদন্তে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে।
মোহাম্মদ ইকতিদার আলম বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এরই মধ্যে নোটিশ করা হয়েছে। কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে অন্তত চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আব্দুস সালাম আরেফ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি সংগঠনটির সভাপতি হন। ওই পদ ব্যবহার করে তিনি কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক বসিয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের আড়ালে হরিলুট

আপডেট সময় :

কুয়েতে ভিসা প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফির চেয়ে অন্তত ৭ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে-বছরের পর বছর ধরে ওই সিন্ডিকেট কুয়েতে কাজের ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার সিন্ডিকেট ভাঙতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিশন ওই গ্রুপটির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তলব করা হয়েছে সিন্ডিকেট প্রধান আব্দুস সালাম আরেফকে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুসারে, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। তবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করে দেশটির ভিসা প্রসেসিং করে আসছে। যদিও দেশে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা। তবে সিন্ডিকেট নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে। এভাবে গত ৮ বছরে তারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিযোগিতা কমিশন ও রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ নারী গৃহকর্মী। সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভিসা ফির বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ শুরু করেছে সরকার। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিশনার ওই কুয়েত ভিসা সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে মর্ডান ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে। সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্তে অনুসন্ধান কমিটিও করেছে সরকারি সংস্থাটি। গত ৪ জানুয়ারি আব্দুস সালাম আরেফকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, ধার্য তারিখে (৮ জানুয়ারি) ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রিরও একটি অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা তদন্তে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে।
মোহাম্মদ ইকতিদার আলম বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এরই মধ্যে নোটিশ করা হয়েছে। কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে অন্তত চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আব্দুস সালাম আরেফ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি সংগঠনটির সভাপতি হন। ওই পদ ব্যবহার করে তিনি কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক বসিয়েছিল।